ঐতিহ্যবাহী পর্যটন স্পট ছাড়িয়ে রিওর ফাভেলাগুলোতে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, স্থানীয় জীবনধারা, সংস্কৃতি ও মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম কাছ থেকে দেখার আগ্রহ থেকেই এই ভিন্নধর্মী পর্যটনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে রিও ডি জেনেইরোতে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ পর্যটক এসেছেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ছিল প্রায় ২১ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এই পর্যটন প্রবৃদ্ধির ফলে শহরের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৭৮০ কোটি রিয়েস, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার সমান।
রিওর সবচেয়ে বড় ফাভেলাগুলোর একটি রোসিনহা এখন নিয়মিত পর্যটন ট্যুরের অন্তর্ভুক্ত। প্রতিদিনই এখানে ছোট ছোট দল নিয়ে প্রবেশ করছেন বিদেশি পর্যটকরা। স্থানীয় বাসিন্দারাই গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিজেদের এলাকা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির গল্প তুলে ধরছেন দর্শনার্থীদের সামনে।
স্থানীয় গাইড ভিটোর ওলিভেইরা জানান, আগে তিনি রোসিনহায় ট্যাক্সি চালাতেন। পর্যটকদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করলে তিনি গাইড হিসেবে কাজ শুরু করেন। এখন ফাভেলা ভ্রমণ পরিচালনাই তার প্রধান আয়ের উৎস। তার মতো আরও অনেক বাসিন্দার জীবন বদলে দিয়েছে এই পর্যটন।
ফাভেলা ভ্রমণে পর্যটকরা দেখতে পাচ্ছেন সরু গলি, রঙিন দেয়ালচিত্র, স্থানীয় শিল্পকর্ম ও সঙ্গীতচর্চা। কোথাও কোথাও ক্যাপোয়েরার মতো ঐতিহ্যবাহী ব্রাজিলীয় নৃত্য ও লড়াইয়ের পরিবেশনাও আয়োজন করা হয়। কিছু বাড়ির ছাদে তৈরি করা হয়েছে ভিউ পয়েন্ট, যেখান থেকে পুরো রিও শহরের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
অনেক পর্যটকের মতে, জনপ্রিয় স্থানের বাইরে এসে ফাভেলাগুলো রিও ডি জেনেইরোর বাস্তব চেহারা দেখার সুযোগ দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই পর্যটন যেন দারিদ্র্যকে প্রদর্শনের উপকরণে পরিণত না হয়। স্থানীয় মানুষের সম্মান, নিরাপত্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই ফাভেলা পর্যটন পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।