বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহরেই উৎসবের রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। সৈকতজুড়ে পর্যটকদের উপস্থিতি, হোটেলগুলোতে বৈশাখী আয়োজন আর প্রশাসনের প্রস্তুতিতে সমুদ্র শহরটি পেয়েছে নতুন আবহ। তবে আগাম বুকিং তুলনামূলক কম থাকায় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা কিছুটা সতর্ক আশাবাদের মধ্যেই সীমিত।
১৪৩৩ বঙ্গাব্দের সূচনায় মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বর্ণিল আয়োজনে নববর্ষকে বরণ করেছে কক্সবাজার। পর্যটননির্ভর এই শহরের সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন এবং বিভিন্ন স্পটে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আলপনা, লোকজ সাজসজ্জা ও বৈশাখী আবহে সাজানো হয়েছে আবাসিক হোটেলগুলো।
বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানে চলছে বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ প্যাকেজের আয়োজন। অনেক হোটেল অতিথিদের আকৃষ্ট করতে ছাড়মূল্যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঈদ ও থার্টিফার্স্ট নাইটের মতো ভিড়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটন স্পটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি দীর্ঘ ঈদের ছুটির পরও কক্সবাজারে পর্যটকদের আনাগোনা পুরোপুরি কমেনি। তবে আগাম বুকিং এখনো আশানুরূপ নয়। অধিকাংশ হোটেলে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। গরম আবহাওয়া এবং ঈদের পরপরই বৈশাখ পড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক পর্যটক কক্সবাজারে এসে পৌঁছেছেন। চৈত্রের তাপদাহ উপেক্ষা করেও সৈকতে ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেছে তাদের। মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর সমুদ্রের আবহ উপভোগ করছেন আগতরা।
ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, মৌসুমের শেষ সময়ে সাধারণত পর্যটক কম থাকে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এবার কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
হোটেল ওশান প্যারাডাইসসহ বেশ কয়েকটি তারকা হোটেলে চার দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। র্যালি, লোকজ খেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকছে বৈশাখী খাবারের আয়োজন।
এছাড়া রামাদা, সায়মন, লংবিচ, বেস্ট ওয়েস্টার্নসহ বিভিন্ন হোটেল নিজস্ব আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোও আলাদা করে অনুষ্ঠান করছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতি জানিয়েছে, জেলায় প্রায় সোয়া লাখ মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ভিড় কম হলেও মোটামুটি পর্যটক উপস্থিতি থাকবে বলে তারা আশা করছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি র্যাবের টহলও থাকবে।