ঢাকার অদূরে অবস্থিত মুন্সীগঞ্জ জেলা দিন দিন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। ইতিহাসসমৃদ্ধ স্থাপনা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং নদীমাতৃক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্য এ জেলা এখন অনেকের পছন্দের তালিকায়।

জেলার অন্যতম আকর্ষণ ইদ্রাকপুর কেল্লা। মোগল আমলে ১৬৬০ সালে সুবেদার মীর জুমলা ধলেশ্বরী নদীর তীরে এই কেল্লা নির্মাণ করেন। প্রায় সাড়ে ৩৫০ বছরের পুরোনো এ স্থাপনাটি মোগল স্থাপত্যরীতির একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। কেল্লার দেয়াল ও নকশায় ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। এর পাশেই রয়েছে একটি ছোট জাদুঘর, যেখানে পোড়ামাটির নিদর্শন, পুরোনো সামগ্রী ও আলোকচিত্র সংরক্ষিত আছে।

মুন্সীগঞ্জের বজ্রযোগিনী গ্রামে অবস্থিত অতীশ দীপঙ্করের জন্মভিটাও দর্শনার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ৯৮২ সালে জন্মগ্রহণকারী এই বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিতের স্মৃতিতে এখানে নির্মিত হয়েছে শান্তিস্তূপ ও মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স। চীনা স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত মন্দির ও গ্রন্থাগার স্থানটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমানে এটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া টংগীবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের জোড়া মঠ অষ্টাদশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। দুটি গম্বুজ আকৃতির মন্দির নিয়ে গঠিত এই স্থাপনাটি স্থানীয়ভাবে জোড়া মঠ নামে পরিচিত। এর কারুকাজ ও স্থাপত্য দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকেও মুন্সীগঞ্জ সমৃদ্ধ। পদ্মা নদীর তীরবর্তী মাওয়া এলাকা ভ্রমণকারীদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। পদ্মা সেতুর দৃশ্য, নদীতে নৌভ্রমণ এবং বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে প্রতিদিন এখানে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। নদীর বুক থেকে সেতুর বিশালতা ও চারপাশের পরিবেশ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দেয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ঢাকা থেকে দিনে দিনে মুন্সীগঞ্জ ভ্রমণ করা সম্ভব। গুলিস্তান, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী থেকে সরাসরি বাস চলাচল করে। পাশাপাশি মাওয়া রুটেও বিভিন্ন পরিবহন নিয়মিত চলাচল করছে। চাইলে ব্যক্তিগত যানবাহন বা ভাড়া করা মাইক্রোবাসেও সহজে ঘুরে আসা যায়।

খাবারের ক্ষেত্রেও মুন্সীগঞ্জ ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। পদ্মার ইলিশ ভাজা, ভর্তা ও দেশি খাবার এখানে বেশ জনপ্রিয়। মাওয়া ও শিমুলিয়া এলাকায় মাঝারি মানের বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে।