তীব্র তাপদাহের মাঝেও নাটোরের উত্তরা গণভবনে এক টুকরো স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সেই স্বস্তির নাম পারিজাত। বিরল এই ফুলের সৌন্দর্য, শীতল ছায়া আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর পরিবেশ প্রতিদিন টানছে হাজারো মানুষকে।
উত্তরা গণভবনের প্রবেশপথ পেরিয়ে লেকের পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী দুটি পারিজাত গাছ। প্রায় সাত মিটার উচ্চতার এই চিরসবুজ গাছগুলো ছাতার মতো বিস্তৃত হয়ে আশপাশ ঢেকে রেখেছে। ঘন পাতার আচ্ছাদনে নিচে পৌঁছায় না সূর্যের তাপ, তৈরি হয় স্বস্তির আবহ।
পারিজাত এ দেশে দুষ্প্রাপ্য। গাছের কাণ্ড ও ডালপালা অশোকের মতো হলেও পাতার বিন্যাসে রয়েছে আলাদা বৈচিত্র্য। কচি পল্লব হরিণ রঙের, কলার মোচার মতো গুচ্ছাকারে জন্ম নেয়। সময়ের সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে শত শত পাতায়।
এই গাছের ফুলও আলাদা বৈশিষ্ট্যে অনন্য। প্রতিটি ফুল আসলে ছোট ছোট বহু ফুলের সমাহার, রক্তিম আভায় ভরপুর। গন্ধ না থাকলেও ফুলে থাকে প্রচুর মধু ও পরাগরেণু। ফলে দিনভর হাজারো মৌমাছি মধু আহরণে ব্যস্ত থাকে, যা পুরো এলাকাকে করে তোলে প্রাণবন্ত।
পারিজাতকে ঘিরে রয়েছে পুরাণ ও সাহিত্যের সমৃদ্ধ উল্লেখ। বিপ্রদাশ বড়ুয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, দেবর্ষি নারদ স্বর্গ থেকে এই ফুল এনেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ তা উপহার দেন তাঁর পত্নীকে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁদের রচনায় পারিজাতের সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন।
উত্তরা গণভবনের হিসাব সহকারী নুর মোহাম্মদ জানান, এখানে মোট ছয়টি পারিজাত গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রবেশপথের বাম পাশের দুটি গাছ দুই শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। জেলা প্রশাসন এই বিরল গাছের বিস্তারে উদ্যোগ নিয়েছে এবং চারা তৈরির চেষ্টা চলছে।
ঈদ ও পরবর্তী দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার দর্শনার্থী গণভবনে আসছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসমাউল হুসনা বলেন, প্রতি বছর এই সময়ে তিনি পারিজাত দেখতে আসেন। তাঁর ভাষায়, এই সৌন্দর্য বারবার টানে।
ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী কামরুন নাহার জানান, জীবনে প্রথমবার পারিজাত দেখে তিনি মুগ্ধ। আরেক দর্শনার্থী সবুজ কান্তি আচার্য বলেন, স্বর্গীয় ফুল হিসেবে পরিচিত পারিজাতের প্রকৃত সৌন্দর্য অনুভব করতে হলে গাছের নিচে দাঁড়াতে হয়।
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, তাপদাহ সত্ত্বেও ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ এখানে ভিড় করছেন। দর্শনার্থীদের কাছে পারিজাত এখন শুধু ফুল নয়, এক অনন্য শান্তির আশ্রয়।