ঢাকার কাছেই প্রকৃতির এক ভিন্ন স্বাদ। ঘন রাবারবন, বিরল বানরের দল আর নীরব গ্রামবাংলার আবহ মিলে সন্তোষপুর যেন এক অনন্য ভ্রমণগন্তব্য। ছুটির দিনে অল্প সময়েই ঘুরে আসা যায় এমন জায়গার খোঁজে থাকলে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার এই বনভূমি হতে পারে আদর্শ পছন্দ।

ছুটির দিনে সন্তোষপুর

ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে নয় সন্তোষপুর। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নওগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত এই রাবারবন প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর এক বিরল আশ্রয়স্থল। হাজারো রাবারগাছের ভেতর লুকিয়ে থাকে বুনো বানরের দল, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

ভ্রমণের শুরুটা হয়েছিল ভোরে। যানজট এড়াতে সকাল চারটায় রওনা দিলেও পথে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে মাওনা পার হওয়ার পর পথ সহজ হয়। দীর্ঘ যাত্রা শেষে দুপুরের দিকে ফুলবাড়িয়ার কান্দানিয়া গ্রামে পৌঁছে জানা গেল, বানর দেখার সবচেয়ে ভালো সময় বিকেল।

সময়ের সদ্ব্যবহার করতে কাছের দুলমা গ্রামের একটি অর্কিড বাগানে ঢুঁ মারা হয়। প্রায় ২৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বাগানে লাল, হলুদ, সাদা ও বেগুনি নানা রঙের অর্কিড ফুল চোখ জুড়িয়ে দেয়। দেশি-বিদেশি গাছপালা আর পাখির কোলাহলে সময়টা হয়ে ওঠে প্রশান্তিময়।

এরপর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী গুপ্ত বৃন্দাবন গ্রামে দেখা মেলে একটি প্রাচীন বৃক্ষের। স্থানীয়দের বিশ্বাস, শতাধিক বছরের পুরোনো এই গাছ একবার শুকিয়ে যাওয়ার পর আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। গাছটির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে মতভেদ থাকলেও এটি ঘিরে ধর্মীয় আচার এবং দর্শনার্থীদের আগ্রহ সমানভাবে লক্ষণীয়।

বিকেলের দিকে সন্তোষপুর রাবারবনে পৌঁছালে প্রকৃতির অন্যরকম রূপ ধরা দেয়। প্রায় ১০৬ একর বনাঞ্চলে শাল-গজারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের পাশাপাশি রয়েছে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের রাবারবাগান। নীরব পরিবেশে পাখির ডাক আর গাছের সুবাস ভ্রমণকে করে তোলে স্মরণীয়।

বনের ভেতর বিট অফিসের কাছে দেখা মেলে শত শত বানরের। স্থানীয়দের ভাষায়, এখানে প্রায় ৫০০ বিলুপ্তপ্রায় বানর রয়েছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে তারা নির্ভয়ে কাছে আসে, এমনকি কাঁধে বা কোলে উঠে বসতেও দ্বিধা করে না। এই সামাজিক আচরণই জায়গাটিকে করেছে ব্যতিক্রমী।

তবে বনটির পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে অন্যান্য বন্যপ্রাণী কমে গেছে। রাবারবাগান সম্প্রসারণ ও মানুষের উপস্থিতির কারণে এখন মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বানরের দল। তাদের খাদ্য সংকটও রয়েছে, ফলে দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবারের ওপরই অনেকটা নির্ভরশীল।

দিন শেষে প্রকৃতি আর প্রাণীর সঙ্গে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসতে হয়। অল্প সময়ের এই ভ্রমণও রেখে যায় দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে ফুলবাড়িয়া নামতে হবে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে সহজেই পৌঁছানো যায় সন্তোষপুর। পুরো এলাকা ঘুরতে চাইলে সারা দিনের জন্য যান ভাড়া নেওয়াই সুবিধাজনক।