সবুজ ধানখেত আর পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য মিশেলে নতুন পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার তারাবুনিয়া সড়ক। পিচঢালা এই সড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ সবুজের সমারোহ যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস, যা প্রতিদিনই টানছে দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তৃত ধানখেতের মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ ধরে চলে গেছে সড়কটি। দুই পাশে সবুজের ঢেউ, দূরে সারি সারি পাহাড় আর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বসতি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। অনেকেই এখানে এসে ছবি তোলেন, কেউ মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ান, আবার কেউ পরিবার নিয়ে সময় কাটান।
স্থানীয়দের মতে, আগে এ এলাকায় পর্যটকের আনাগোনা খুব কম ছিল। কিন্তু সড়কটি নির্মাণের পর দৃশ্যপট বদলে গেছে। এখন ছুটির দিনগুলোতে এখানে ভিড় বাড়ে সবচেয়ে বেশি।
এলাকাটির আরেকটি বড় আকর্ষণ স্থানীয় পাহাড়ি খাবার। প্রতিদিন বিকেলে সড়কের দুই পাশে বসেন পাহাড়ি নারীরা। তাঁরা বিক্রি করেন বিভিন্ন ধরনের পিঠা, ভর্তা, পাজন এবং তাজা ফল। এতে একদিকে পর্যটকেরা স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, অন্যদিকে নারীদের জন্য তৈরি হয়েছে আয়ের নতুন সুযোগ।
পিঠা বিক্রেতা নমিতা চাকমা জানান, পর্যটকরাই তাঁদের প্রধান ক্রেতা। ছুটির দিনে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, অন্য সময়েও প্রায় দেড় হাজার টাকার মতো আয় হয়। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁরা দোকান বসান।
দীঘিনালা বাজারের বাসিন্দা জেসমিন চাকমা বলেন, এই সড়ক এখন এলাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান বিকাশ চাকমা জানান, সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে দুই পাশে গাছ লাগানো হয়েছে। এতে পরিবেশ যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনি পর্যটকদের জন্য জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হয়েছে।
দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক। অনেকেই বলেন, আগে দীঘিনালায় ঘোরার মতো জায়গা কম ছিল। এখন এই সড়কটি বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অন্যতম ঠিকানা হয়ে উঠেছে।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি পৌঁছে নানিয়ারচর বা নানসি বাজার এলাকা থেকে পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা বা মোটরসাইকেলে দীঘিনালা বাস টার্মিনালে যাওয়া যায়। ভাড়া ৭০ থেকে ১৫০ টাকা। সেখান থেকে অটোরিকশায় ২০ টাকায় পৌঁছানো যাবে তারাবুনিয়া সড়কে।
থাকার ব্যবস্থা
দীঘিনালার বোয়ালখালী বাজারে হোটেল ইউনিটি ও হোটেল একতা ইন রয়েছে। এখানে ৫০০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে কক্ষ পাওয়া যায়। এছাড়া উপজেলা পরিষদের রেস্টহাউসেও থাকার সুযোগ রয়েছে।