ভ্রমণ পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুতই বড় পরিবর্তন আনছে। বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে বিশ্বের এক জায়গা থেকে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা বিভিন্ন গন্তব্যের রুট, ভাড়া ও বিকল্প পরিবহন সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পাচ্ছেন।
আগে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার সেরা পথ খুঁজতে একাধিক ওয়েবসাইট ঘেঁটে ট্রেন, বাস, ফ্লাইট বা ফেরির সময়সূচি মিলিয়ে নিতে হতো। এখন ব্যবহারকারী শুধু প্রশ্ন করছেন, “এই শনিবার ঢাকা থেকে লন্ডন বা প্যারিস যাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী পথ কী?” আর এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে।
গবেষণা বলছে, বর্তমানে প্রতি তিনজন ভ্রমণকারীর একজন ইতোমধ্যে ভ্রমণ পরিকল্পনায় এআই ব্যবহার করছেন। অনেকেই গন্তব্য ঠিক করার আগেই প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন। এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে ভ্রমণ পরিকল্পনার বড় অংশই এআই-নির্ভর হয়ে উঠতে পারে।
তবে এআই নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। এআই কখনও কখনও ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করতে পারে, যাকে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছে, তারা অনুমানভিত্তিক তথ্য নয়, বরং লাইভ ডেটা ও যাচাইকৃত তথ্যভান্ডার ব্যবহার করছে। অর্থাৎ ট্রেন, বাস বা ফেরির তথ্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের এপিআই থেকে নেওয়া হচ্ছে, ফলে তথ্য বাস্তব ও নির্ভরযোগ্য।
এআই শুধু পরিকল্পনাতেই নয়, ভ্রমণের সময়ও সহায়ক হতে পারে। যদি কোনো রুটে হঠাৎ বিঘ্ন ঘটে, তাহলে যাত্রীকে তাৎক্ষণিক বার্তা দিয়ে বিকল্প পথের প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব। এতে ভ্রমণ হবে আরও স্বচ্ছ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ। যদিও শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনে খরচ বাড়তে পারে, তবু যাত্রী আগে থেকেই পরিস্থিতি জানতে পারবেন।
তবে প্রযুক্তির এই সুবিধার পাশাপাশি একটি আশঙ্কাও রয়েছে। যদি সবাই এআই-এর পরামর্শ অনুযায়ী একই জনপ্রিয় গন্তব্য বেছে নেয়, তাহলে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে থাকা শহরগুলো আরও ভিড়াক্রান্ত হয়ে উঠতে পারে। কারণ এআই সাধারণত জনপ্রিয়তা-ভিত্তিক ডেটা থেকে শেখে এবং সেই অনুযায়ী সুপারিশ করে।
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, কথোপকথনভিত্তিক এআই ব্যবহারকারীদের আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে উৎসাহিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি স্পেনের মাদ্রিদে এক রাত থাকার জায়গা খোঁজেন, তাহলে পরবর্তী প্রশ্নে সেভিল, গ্রানাডা বা বিলবাওয়ের মতো তুলনামূলক কম ভিড়ের শহর সম্পর্কেও জানতে পারেন। এতে পর্যটন বড় শহরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে, এআই ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করে তুলছে। ফ্লাইট ধরতে দৌড়ানো বা বিদেশি শহরে পৌঁছে হোটেলে যাওয়ার পথ নিয়ে দুশ্চিন্তা—এসব উদ্বেগ কমিয়ে দিতে পারে প্রযুক্তি। তবে ভ্রমণের স্বতঃস্ফূর্ততা ও অজানা পথের রোমাঞ্চ যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।