জাপানের একটি শান্ত শহর এখন পর্যটনের চাপে দিশেহারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিই বদলে দিয়েছে শহরের চিত্র, আর সেই সৌন্দর্য এখন স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুজিয়োশিদা শহরটি একসময় নিরিবিলি আবাসিক এলাকা হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি একটি ভাইরাল ছবির কারণে এখানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ছবিতে তুষারঢাকা মাউন্ট ফুজি, সামনে লাল প্যাগোডা এবং চারপাশে ফুটন্ত চেরি ফুলের অপূর্ব দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। এরপর থেকেই হাজার হাজার পর্যটক একই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করতে ভিড় করছেন শহরটিতে।
এই আকস্মিক ভিড় স্থানীয়দের জীবনে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করেছে। প্রতিদিন সরু রাস্তায় পর্যটকদের ভিড়ে দীর্ঘ যানজট দেখা যাচ্ছে। অনেক পর্যটকের ফেলে যাওয়া আবর্জনায় পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। এমনকি ব্যক্তিগত বাড়ির সামনে অনভিপ্রেত আচরণের অভিযোগও উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে টয়লেট ব্যবহারের জন্য পর্যটকদের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ার ঘটনাও স্থানীয়দের বিব্রত করছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শহর কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। চলতি বছরের চেরি ফোটা উৎসব বাতিল করা হয়েছে। প্রায় এক দশক আগে পর্যটন বাড়াতে এই উৎসব চালু করা হয়েছিল, তবে এখন সেটিই শহরের জন্য চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা মাসাতোশি হাদা বলেন, এলাকা মূলত আবাসিক হওয়ায় এখানে পর্যটনের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত নতুন কোনো পর্যটন আয়োজন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সমস্যা শুধু ফুজিয়োশিদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কিয়োটো এবং কামাকুরা শহরেও অতিরিক্ত পর্যটনের প্রভাব স্পষ্ট। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় স্যুটকেসসহ পর্যটকদের ভিড়ে গণপরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
একদিকে জাপান সরকার পর্যটন খাত সম্প্রসারণে আগ্রহী, অন্যদিকে অতিরিক্ত পর্যটন বা ওভারট্যুরিজম স্থানীয় জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৪ কোটি পর্যটক জাপানে ভ্রমণ করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৬ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে ফুজিয়োশিদায় কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, ভ্রমণ বাস প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট পথে হেঁটে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের মধ্যে মতভেদও রয়েছে। কেউ শান্ত পরিবেশ ফিরে পেতে চান, আবার কেউ পর্যটন বৃদ্ধির ফলে ব্যবসার সুযোগ বাড়ায় সন্তুষ্ট। তবুও অনেকেই আশা করছেন, পর্যটকেরা স্থানীয় নিয়ম ও সংস্কৃতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবেন।