টেকনাফের সাবরাংয়ে জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় সেন্ট মার্টিনগামী পর্যটনের নতুন দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলেও গড়ে উঠছে আরেকটি জেটি, যা শিল্প ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে গতি আনবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারের টেকনাফে অবস্থিত সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে নির্মিতব্য জেটি থেকে সরাসরি সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন পর্যটকেরা। বর্তমানে এই রুটে যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন জেটি চালু হলে যাতায়াত সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় নির্মিত জেটিটি ব্যবহার করতে পারবে সেখানে বিনিয়োগকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। এতে পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেটি দুটি নির্মাণ করবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা ও পরিচালনার দায়িত্বও থাকবে সংস্থাটির ওপর।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ও নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বেজার নির্বাহী বোর্ডের সচিব জুলিয়া মঈন এবং বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, জেটি ও আনুষঙ্গিক স্থাপনার জন্য মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬ দশমিক ১৮ একর এবং সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ৫ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প থেকে অর্জিত নিট মুনাফা বেজা ও বিআইডব্লিউটিএ যথাক্রমে ৪৫ ও ৫৫ শতাংশ হারে ভাগ করে নেবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। নতুন জেটি নির্মাণ হলে সেখানে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বেজার নির্বাহী সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগ জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আরেক নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ জানান, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাবরাংয়ে পর্যটন শিল্পের বড় সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই জেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরও উন্মোচিত হবে।

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, সংস্থার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে দেশের নৌ যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।