২০২৬ সাল আসতে না আসতেই বিশ্বজুড়ে পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে অবিশ্বাস্য কিছু নাম। রাজকীয় প্রাসাদ, গভীর অরণ্যের সাফারি ক্যাম্প কিংবা সমুদ্রের নীল জলরাশির তীরে গড়ে ওঠা আধুনিক রিসোর্ট— বিলাসিতার সংজ্ঞাই যেন বদলে গেছে এবার। নামী সাময়িকী এস্কুয়্যার-এর সৌজন্যে উন্মোচিত হয়েছে বিশ্বের সেরা ৪৩টি নতুন হোটেলের তালিকা। আজকের ভিডিওতে আমরা ঘুরে দেখব সেই তালিকার সেরা কিছু রত্ন।

ইতালির ধ্রুপদী আভিজাত্য
তালিকায় সবার উপরে নাম এসেছে ইতালির ফ্লোরেন্সের ‘কোলেজিও আল্লা কোয়ার্চে’-র। রেনেসাঁ যুগের এই ঐতিহাসিক ভবনটি এখন আধুনিক পর্যটকদের সেরা গন্তব্য। এখানে থাকার মানে হলো তোসকানির পাহাড় আর ফ্লোরেন্সের ড্যুমোর সৌন্দর্যকে নিজের জানালায় বন্দি করা। এর প্রতিটি কোণ, এমনকি হেডমাস্টারের পুরনো অফিসটিও এখন একটি স্টাইলিশ সিগনেচার বার! ইতালিতে আরও আছে মিলানের আর্ট হোটেল ‘ক্যালিমালা’ এবং ফ্লোরেন্সের ‘ডব্লিউ ফ্লোরেন্স’, যার রুফটপ বার আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।

যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক চমক ও হলিউড গ্ল্যামার
এবার আটলান্টিক পেরিয়ে নজর দেওয়া যাক আমেরিকার দিকে। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘হোটেল ডেল করোনাডো’ যেন ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। মেরিলিন মনরো থেকে শুরু করে বহু প্রেসিডেন্ট ও রাজন্যবর্গ এই হোটেলের আতিথেয়তা নিয়েছেন। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া পেতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে সিলিকন ভ্যালির ‘ট্রিহাউস হোটেল’-এ। এর প্রতিষ্ঠাতা ব্যারি স্টার্নলিচ চেয়েছিলেন হোটেলটি যেন মানুষের কাছে তার নিজের বাড়ির মতো আরামদায়ক আর পরিচিত মনে হয়।

যুক্তরাজ্যের আভিজাত্য ও প্যারিসের আধুনিকতা
ব্রিটেনের পর্যটন প্রেমীদের জন্য সুখবর হলো, এবারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে লন্ডনের দুটি অনবদ্য হোটেল— ‘টেম্পলটন গার্ডেন’ এবং ‘দ্য নিউম্যান’। ফিটজরোভিয়ার অভিজাত এলাকায় অবস্থিত নিউম্যান হোটেলের স্পা আর আইস লাউঞ্জ আপনাকে দেবে এক অপার্থিব প্রশান্তি। অন্যদিকে প্যারিসের ‘লা ফন্ডেশন’ কিংবা ব্রাসেলসের ‘কোরিন্থিয়া’ হোটেলগুলো যেন আভিজাত্য আর ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিগন্ত
এশিয়াও কিন্তু পিছিয়ে নেই। জাপানের ওসাকায় উদ্বোধন হয়েছে দেশটির প্রথম ‘ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া’। জাপানিদের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধার এক অনন্য উদাহরণ এটি। আর যারা ইন্দোনেশিয়ার বালিতে প্রশান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য সেরা গন্তব্য হতে যাচ্ছে ‘রিজেন্ট বালি চাঙ্গু’। সমুদ্রের গর্জন আর ধানক্ষেতের সবুজের মাঝে এই হোটেলটি যেন শান্তির এক স্বর্গরাজ্য।

বন্যপ্রাণের সান্নিধ্য ও প্রকৃতি
যদি আপনি অরণ্যপ্রেমী হন, তবে কেনিয়ার সাফারি রিসোর্টগুলো আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। স্যার রিচার্ড ব্র্যানসনের ‘মহালি মজুরি’ সাফারি ক্যাম্পে আপনি পাবেন বিলাসবহুল তাবু, যেখানে বন্যপ্রাণীরা আসবে আপনার দোরগোড়ায়। কেনিয়ার মাসাই মারার এই অভিজ্ঞতা আপনার সারাজীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে। মেক্সিকোর ‘রোজউড মান্ডারিনা’ কিংবা কোস্টারিকার ‘ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া’ প্রকৃতির কোলে মাথা গোঁজার এমন বিলাসিতা আগে কখনো দেখা যায়নি।

২০২৬ সালের এই ৪৩টি হোটেল কেবল থাকার জায়গা নয়, বরং এক একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। শিল্পকলা, ইতিহাস, আধুনিক প্রযুক্তি আর প্রকৃতির মিশেলে এই হোটেলগুলো বিশ্বজুড়ে পর্যটনকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। আপনার পরবর্তী ভ্রমণের তালিকায় এর মধ্যে কোনটি থাকছে? আমাদের কমেন্ট করে জানান। আজকের মতো বিদায়, দেখা হবে অন্য কোনো নতুন গন্তব্যে!