দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ দেশ আর্জেন্টিনা এক ভ্রমণেই শেষ করা প্রায় অসম্ভব। চার ঋতুর বৈচিত্র্য, পাহাড়, হিমবাহ, জলপ্রপাত আর প্রাণবন্ত শহর মিলিয়ে এখানে রয়েছে নানা অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাই ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে বেছে নিতে হবে আপনার আগ্রহ অনুযায়ী সেরা গন্তব্যগুলো।
বুয়েনোস আইরেসে ফুটবল উন্মাদনা
আর্জেন্টিনার ফুটবল আবেগ কাছ থেকে দেখতে চাইলে বুয়েনোস আইরেসে একটি ম্যাচ দেখা অপরিহার্য। বড় স্টেডিয়ামের টিকিট পাওয়া কঠিন হলেও ছোট ক্লাবগুলোর খেলায়ও সমান উত্তেজনা পাওয়া যায়। ম্যাচ সূচি পরিবর্তনশীল, তাই আগে থেকে পরিকল্পনা জরুরি।
ইগুয়াজু জলপ্রপাতের শক্তি অনুভব
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সীমান্তে অবস্থিত ইগুয়াজু জলপ্রপাত বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়। ডেভিলস থ্রোট অংশটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ট্রেইল, ভিউপয়েন্ট বা বোট রাইডে কাছ থেকে দেখার সুযোগ রয়েছে। সকালে গেলে ভিড় কম থাকে।
আর্জেন্টাইন আসাদো উপভোগ
বিশ্বখ্যাত আর্জেন্টাইন বারবিকিউ বা আসাদো মাংসপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। বুয়েনোস আইরেসের রেস্তোরাঁগুলোতে উন্নত মানের বিফের নানা পদ পাওয়া যায়। শহরের বাইরে ঐতিহ্যবাহী খামারেও এই অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
কাতামারকার আগ্নেয়গিরির পথ
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কাতামারকা অঞ্চলে ৬০০০ মিটার উচ্চতার আগ্নেয়গিরি, লবণভূমি ও হ্রদের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়। ভ্রমণের জন্য গাইডসহ ৪x৪ যান প্রয়োজন।
মেন্দোজার ওয়াইন সংস্কৃতি
দেশটির প্রায় ৭৮ শতাংশ ওয়াইন উৎপাদিত হয় মেন্দোজায়। মালবেক আঙ্গুরের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চল ওয়াইনপ্রেমীদের স্বর্গ। মার্চে গ্রেপ হারভেস্ট উৎসব বিশেষ আকর্ষণ।
প্যাটাগোনিয়ার হিমবাহের মহিমা
লোস গ্লাসিয়ারেস ন্যাশনাল পার্কে পেরিতো মোরেনো হিমবাহ অন্যতম আকর্ষণ। বিশাল বরফখণ্ড ভেঙে পড়ার দৃশ্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা দেয়। নৌভ্রমণ বা আইস ট্রেকিংয়ের সুযোগ রয়েছে।
ইবেরা জলাভূমির বন্যজীবন
এক মিলিয়ন হেক্টরের বেশি বিস্তৃত ইবেরা জলাভূমি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। নৌকাভ্রমণে কাইমান, ক্যাপিবারা ও নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। শরৎ ও বসন্ত ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়।
লেক ডিস্ট্রিক্টে সাইক্লিং
ভিলা লা অ্যাঙ্গোস্তুরা থেকে সান মার্টিন দে লস আন্দেস পর্যন্ত পথটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। চার দিনে সাইক্লিং করে এই অঞ্চল ঘোরা যায়।
হুমাহুয়াকা উপত্যকার ঐতিহ্য
১০ হাজার বছরের পুরোনো এই অঞ্চল ইনকা সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সাত রঙের পাহাড় ও ঐতিহ্যবাহী গ্রাম পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
বুয়েনোস আইরেসের সংস্কৃতি ও ট্যাঙ্গো
শহরটি লাতিন আমেরিকার সাংস্কৃতিক রাজধানীগুলোর একটি। ট্যাঙ্গো নাচ, থিয়েটার ও সংগীত এখানে ভ্রমণকে ভিন্ন মাত্রা দেয়।
বিগল চ্যানেলে নৌভ্রমণ
বিশ্বের শেষ প্রান্ত হিসেবে পরিচিত উশুয়াইয়া থেকে বিগল চ্যানেলে নৌভ্রমণে সামুদ্রিক প্রাণী ও ঐতিহাসিক বাতিঘর দেখা যায়। এই পথ চার্লস ডারউইনের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।