বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় আর কোলাহল এড়িয়ে নিরিবিলি ছুটি কাটাতে চান অনেকেই। তাদের জন্য সুখবর হলো, সম্প্রতি জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ বিশ্বের সবচেয়ে কম ভ্রমণকারী যায়, এমন কয়েকটি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে।
এই তালিকায় এমন কিছু দেশ রয়েছে, যেখানে বছরে পর্যটকের সংখ্যা মাত্র কয়েক হাজার, যেখানে ইউরোপের জনপ্রিয় দেশগুলোতে সেই সংখ্যা লাখ বা কোটির ঘরে।
এই তালিকার কোনো কোনো দেশ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পর্যটক হারিয়েছে। তবে সৌন্দর্যের দিক থেকে এগুলো কোনো অংশেই কম নয়। নিচে তুলে ধরা হলো বিশ্বের সবচেয়ে কম ভ্রমণকারী যায় এমন পাঁচটি দেশ—
প্রথমেই রয়েছে কিরিবাতি। অস্ট্রেলিয়া ও হাওয়াইয়ের মাঝামাঝি অবস্থিত এই দ্বীপদেশটি ৩২টি অ্যাটল ও একটি প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত। বছরে এখানে মাত্র প্রায় ৯,৫০০ পর্যটক যায়। মানচিত্রে খুঁজে পাওয়া কঠিন এই দেশটি বিশ্বের একমাত্র দেশ যা চারটি গোলার্ধেই বিস্তৃত। এখানেই প্রথম নতুন বছর উদযাপন করা হয়। তবে সেখানে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ও ব্যয়বহুল ফ্লাইটের প্রয়োজন হয়।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, যেখানে বছরে প্রায় ৬,০০০ পর্যটক ভ্রমণ করেন। সাদা বালির সৈকত, স্বচ্ছ নীল জল আর ১৬০টিরও বেশি প্রবাল প্রজাতি এটিকে করে তুলেছে স্বর্গীয় গন্তব্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ও মার্কিন পারমাণবিক পরীক্ষার স্মৃতিও এখানে বিদ্যমান। তবে ভ্রমণ খরচ অত্যন্ত বেশি এবং যাত্রাও দীর্ঘ।
তৃতীয় স্থানে থাকা নিউই একটি ছোট দ্বীপদেশ, যেখানে বছরে প্রায় ৯,০০০ পর্যটক যায়। মাত্র ১,৯০০ জন মানুষের বসবাস এখানে। নেই কোনো ট্রাফিক লাইট, নেই যানজট— সবকিছুই শান্ত ও স্বাভাবিক। প্রকৃতি এখানে এখনো অক্ষত রয়েছে। তবে সেখানে যেতে হলে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়, কারণ ফ্লাইট সংখ্যা সীমিত।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে মাইক্রোনেশিয়া, যেখানে বছরে প্রায় ১৮,০০০ পর্যটক আসে। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে থাকা এই দ্বীপপুঞ্জে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রবালপ্রাচীর ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য। এখানেই রয়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত প্রাচীন নগরী নান মাডল, যার ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি পুরনো।
সবশেষে রয়েছে মোন্টসিরাত। ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই ব্রিটিশ অধিভুক্ত দ্বীপটি একসময় জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ছিল। তবে ১৯৯৫ সালের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত দ্বীপটির রাজধানীসহ বড় অংশ ধ্বংস করে দেয়, ফলে জনসংখ্যার বড় অংশ দেশত্যাগ করে। বর্তমানে সেখানে সরাসরি ফ্লাইট নেই, তবে প্রতিবেশী দ্বীপ হয়ে যাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, এই দেশগুলো পর্যটকদের জন্য একেবারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়—নেই ভিড়, আছে অক্ষত প্রকৃতি ও অনন্য সৌন্দর্য। যদিও সেখানে পৌঁছানো কিছুটা কঠিন ও ব্যয়বহুল, তবুও যারা নিরিবিলি ও ব্যতিক্রমী ভ্রমণ চান, তাদের জন্য এই গন্তব্যগুলো হতে পারে স্বপ্নের মতো।