প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলের বুকে ছড়িয়ে থাকা শত শত ছোট দ্বীপের দেশ পালাউ এখনো পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে থাকা এক অনন্য গন্তব্য। অপরূপ প্রকৃতি, সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও ইতিহাসের ছাপ মিলিয়ে এই দ্বীপদেশ ক্রমেই হয়ে উঠছে নিভৃত ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র।
প্রায় ৩৪০টি প্রবাল ও আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত পালাউতে ২০২৫ সালে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৬৬ হাজারেরও কম। ফলে এখানকার অনেক সৈকত এখনো প্রায় নির্জন। সমুদ্র, পাহাড়ি ঝরনা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ একসঙ্গে উপভোগের সুযোগ তৈরি করেছে ভ্রমণকারীদের জন্য।
ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকে এবং জলক্রীড়ার জন্য অনুকূল। তবে এটি পর্যটনের শীর্ষ মৌসুম হওয়ায় খরচ তুলনামূলক বেশি। মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল হলেও সারা বছরই এখানে ভ্রমণ করা সম্ভব, কারণ ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি নেই।
স্বল্প সময়ের ভ্রমণে ২ থেকে ৩ দিনেই প্রধান আকর্ষণগুলো ঘোরা যায়। রাজধানী কোররের জাদুঘরগুলো ঘুরে দেশের ইতিহাস জানা যায়। এরপর বিখ্যাত রক আইল্যান্ডসে নৌভ্রমণ এবং ন্গার্ডমাউ জলপ্রপাত ভ্রমণ জনপ্রিয়। সময় বেশি থাকলে ডাইভিং বা পেলেলিউ দ্বীপে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিদর্শন ঘুরে দেখা যায়।
পালাউয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় আকর্ষণ জেলিফিশ লেক। এখানে লাখ লাখ নিরীহ জেলিফিশের সঙ্গে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা বিশ্বে বিরল। এছাড়া প্রবালপ্রাচীর, হাঙরের বিচরণক্ষেত্র এবং প্রায় ১৩০০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ এই অঞ্চলকে করেছে অনন্য।
দেশটি পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষভাবে সচেতন। ২০০৯ সালে পালাউ নিজেকে বিশ্বের প্রথম ‘শার্ক স্যাংচুয়ারি’ ঘোষণা করে। ২০১৭ সালে চালু হয় ‘পালাউ প্লেজ’, যেখানে পর্যটকদের প্রকৃতি রক্ষার অঙ্গীকার করতে হয়।
যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোররের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই প্রধান প্রবেশদ্বার। শহরের ভেতরে সীমিত বাস চলাচল থাকলেও অধিকাংশ ভ্রমণ নির্ভর করে নৌযান বা চার্টার সার্ভিসের ওপর।
খরচের দিক থেকে পালাউ তুলনামূলক ব্যয়বহুল। সাধারণ আবাসনের জন্য রাতপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। ডাইভিংয়ের জন্য দুই ডাইভে প্রায় ২০০ ডলার ব্যয় ধরা হয়।
এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত সানস্ক্রিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পর্যটকদের ‘রিফ-সেফ’ পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়।