বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়া স্থান হিসেবে পরিচিত মেঘালয়ের মাওসিনরাম সাধারণত প্রকৃতি প্রেমীদের স্বপ্নের গন্তব্য। তবে এই পাহাড়ি জনপদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন এক লোককথা, যা আজও স্থানীয়দের মনে ভয় আর কৌতূহলের জন্ম দেয়। রক্তচোষা ও রূপ বদলাতে সক্ষম এক রহস্যময় সত্তা উ থ্লেন। আধুনিক সময়েও অনেক গ্রামবাসী বিশ্বাস করেন, উ থ্লেন এখনও নানা রূপে মানুষের ক্ষতি করতে পারে।
জানুয়ারির এক শীতল রাতে মাওসিনরামে অবস্থানকালে এই লোককথার মুখোমুখি হন একদল পর্যটক। শিলং থেকে মাওসিনরামের পথচলা ছিল চোখ জুড়ানো। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা, বিস্তীর্ণ টিলা আর ছড়িয়ে থাকা পাইন গাছ পুরো যাত্রাটিকে করে তোলে স্মরণীয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার পথ তিন ঘণ্টার বেশি সময় নেয়, তবে দৃশ্যের সৌন্দর্যে ক্লান্তি টের পাওয়া যায়নি।
মাওসিনরামে পৌঁছে কোনো ব্যস্ত শহর বা ভিড় নয়, বরং নিরব পাহাড়ি গ্রাম, হাতে গোনা কয়েকটি দোকান আর কাঠের খেলনায় মগ্ন শিশুরা। সন্ধ্যা নামার আগেই এক স্থানীয় নারী তার সন্তানদের ঘরে ডেকে নেন। কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় গাইড জানান, সূর্যাস্তের পর শিশুদের বাইরে রাখা এখানে নিরাপদ মনে করা হয় না।
আগুন জ্বালানো কক্ষের ভেতরে বসে শুরু হয় উ থ্লেনের গল্প। খাসি লোককথা অনুযায়ী, উ থ্লেন ছিল এক বিশাল আকৃতির দানবাকৃতি সাপ, যে মানুষের রক্তের বিনিময়ে ধনসম্পদ ও সৌভাগ্য দিত। তাকে ভয়ও করা হতো, আবার কেউ কেউ গোপনে পূজাও করত। সময়ের সঙ্গে সমাজ বদলালেও এই বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি বলে স্থানীয়দের ধারণা।
কথিত আছে, উ থ্লেন কারও চুল বা পোশাকের অংশ পেলেই রূপ বদলে তাকে ধরে ফেলতে পারে। অতীতে কোনো নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে অনেকেই তার জন্য উ থ্লেনকে দায়ী করত। এই ভয় থেকেই সন্ধ্যার পর গ্রাম প্রায় শুনশান হয়ে যায়।
লোককথার আরেক অংশে রয়েছে উ থ্লেনের পরাজয়ের কাহিনি। বুদ্ধি ও কৌশলে তাকে চুন খাইয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার দেহ খণ্ড খণ্ড করে যে স্থানে ফেলা হয়, সেই জায়গাই আজকের দাইনথ্লেন জলপ্রপাত। স্থানীয়দের বিশ্বাস, জলপ্রপাতের পাথরে থাকা গর্তগুলো উ থ্লেনের দেহাংশ পড়ার চিহ্ন।