ইতালির ঐতিহাসিক জলনগরী ভেনিস-এ পর্যটকের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে অবশেষে কার্যকর হলো প্রবেশ ফি। ‘ওভারট্যুরিজম’ নিয়ন্ত্রণে শহর প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো, পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ায় এমন সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই উদ্যোগ চলতি বছর আরও সুসংগঠিত করা হয়েছে। মূলত যারা দিনে এসে দিনেই ফিরে যান, সেই ডে-ট্রিপ পর্যটকদের ওপরই এই ফি প্রযোজ্য। শহরের ধারণক্ষমতার বাইরে পর্যটক প্রবেশ সীমিত রাখাই এর মূল লক্ষ্য।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার, শনিবার, রবিবার এবং নির্ধারিত ছুটির দিনে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভেনিসে প্রবেশ করলে ফি দিতে হবে। আগেভাগে অনলাইনে নিবন্ধন করে পেমেন্ট করলে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ ইউরো। তবে একই দিনে তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করলে দিতে হবে ১০ ইউরো।

নিয়ম অমান্য করলে ৫০ থেকে ৩০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করে কিউআর কোড সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা প্রবেশপথে যাচাই করা হবে।

তবে হোটেলে অবস্থানকারী পর্যটকদের জন্য আলাদা ফি নেই, কারণ তারা আগে থেকেই ট্যুরিস্ট ট্যাক্স প্রদান করেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী, শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ১৪ বছরের নিচে শিশুদের এই ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যদিও তাদেরও অনলাইনে নিবন্ধন করে কিউআর কোড নিতে হবে, যাতে পর্যটকের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ সহজ হয়।

এদিকে ভেনিসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে পর্যটক সংখ্যা আগেই কমে গেছে। তার ওপর নতুন এই ফি আরোপ ডে-ট্রিপ পর্যটকদের আরও নিরুৎসাহিত করতে পারে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় প্রভাব ফেলবে।

বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমের শুরুতে এমন পদক্ষেপে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শহরের পরিবেশ রক্ষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এই উদ্যোগ প্রয়োজনীয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।