ঈদুল ফিতর সামনে রেখে যখন কলকাতার বাজারগুলো জমজমাট হওয়ার কথা, ঠিক তখনই দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বছরের এই সময়টায় যে শহর ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম থাকে, সেখানে এবার অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের অনুপস্থিতিই এই মন্দার প্রধান কারণ।
নিউমার্কেট, হগ মার্কেট, নাখোদা মসজিদ এলাকা, খিদিরপুর, এন্টালি বা গড়িয়াহাট বাজারে এখনো কিছু ক্রেতার দেখা মিলছে। তবে সংখ্যাটি খুবই সীমিত। মূলত চিকিৎসা ভিসায় আসা হাতে গোনা কয়েকজন বাংলাদেশি এসব এলাকায় ঘুরছেন।
অন্যদিকে, ঈদের সময় যেসব এলাকায় হোটেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, সেই মার্কুইস স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটের অনেক আবাসিক হোটেল এবার ফাঁকা পড়ে আছে। সম্রাট হোটেলের এক কর্মকর্তা জানান, করোনা মহামারির পর কিছু পর্যটক ফিরলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশিদের আগমন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
শুধু হোটেল নয়, প্রভাব পড়েছে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসাতেও। সদর স্ট্রিটের ব্যবসায়ী চিন্ময় দাস বলেন, বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ে এখন আর আগের মতো ভিড় নেই। আরেক ব্যবসায়ী শ্যামল বাবু জানান, একসময় যে দোকানে ভিড় সামলানো কঠিন ছিল, সেখানে এখন ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে।
কলকাতার শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান, কোথাও ঈদের সেই চিরচেনা উচ্ছ্বাস নেই। পোশাক, গয়না ও ঈদের আনুষঙ্গিক পণ্যের বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
তবে হতাশার মধ্যেও আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। পার্ক সার্কাস এলাকার ইফতার বিক্রেতা আফতাব আহমেদ মনে করেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। একই আশা ব্যক্ত করেছেন ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ–সংলগ্ন ইফতার বাজারের ব্যবসায়ী মুক্তার খান। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ ও কলকাতার সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক মিলের কারণে বাংলাদেশিদের কাছে কলকাতা একটি জনপ্রিয় কেনাকাটার গন্তব্য। তুলনামূলক কম দামে পোশাক ও নানা পণ্য পাওয়ায় ঈদের আগে এখানে ভিড় লেগে থাকত।
নিউমার্কেটের ফুটপাতের ব্যবসায়ী আজাদ বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হলে আবারও আগের মতো জমে উঠবে কলকাতার ঈদবাজার। এখন সেই দিনের অপেক্ষায় আছেন তারা।