শীতের মৌসুমে ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনায় অনেক পর্যটক এখন নতুন করে নজর দিচ্ছেন গ্রিসের দিকে। তুলনামূলক কম ভিড়, কম খরচ এবং আরামদায়ক আবহাওয়ার কারণে এই সময় দেশটি ঘুরে দেখার আগ্রহ বাড়ছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কে গ্রিসে পর্যটনের অফসিজন হিসেবে ধরা হয়।
এই সময়ে ভ্রমণের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও রয়েছে বেশ কিছু সুবিধা। তীব্র গরম বা পর্যটকের ভিড় না থাকায় প্রাচীন স্থাপনা, জাদুঘর ও ঐতিহাসিক নিদর্শন শান্ত পরিবেশে ঘুরে দেখা যায়। সমুদ্রতটও থাকে অনেকটাই নিরিবিলি। তবে আবহাওয়া ঠান্ডা হওয়ায় ভ্রমণের সময় গরম কাপড় ও বৃষ্টির পোশাক সঙ্গে রাখা প্রয়োজন।
রাজধানী ও বড় শহরের ভ্রমণ
রাজধানী এথেন্স শহর অফসিজনেও বেশ প্রাণবন্ত থাকে। পর্যটক কম থাকায় শহরটি স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে দেখা যায়। এই সময় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় হোটেল বুকিং তুলনামূলক সহজ হয় এবং ভাড়াও থাকে কম। অনেক হোটেল থেকেই দেখা যায় ঐতিহাসিক দুর্গ ও প্রত্নস্থল অ্যাক্রোপোলিস।
উত্তরের থেসালোনিকি এবং দক্ষিণের কালামাতা শহরেও সারা বছর জাদুঘর, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র খোলা থাকে। তাই শীতকালেও এসব শহরে ভ্রমণকারীদের আগ্রহ কমে না।
দ্বীপপুঞ্জে ভিন্ন অভিজ্ঞতা
অফসিজনে গ্রিসের ছোট দ্বীপগুলোতে অনেক পর্যটন ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। অনেক রেস্তোরাঁ, বিনোদনকেন্দ্র বা নৌভ্রমণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মূলত গ্রীষ্মকালীন পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শীতকালে এসব দ্বীপ অনেকটাই শান্ত হয়ে যায়।
তবে বড় দ্বীপগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ থাকে। সান্তোরিনি দ্বীপে বিখ্যাত সূর্যাস্ত দেখার সময় এই মৌসুমে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে। দেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ ক্রিটে রয়েছে ঐতিহাসিক শহর খানিয়া এবং প্রাচীন নিদর্শন নোসোস প্রাসাদ। এছাড়া করফু, কেফালোনিয়া এবং রোডস দ্বীপও শীতকালীন ভ্রমণের জন্য ভালো গন্তব্য।
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের খোঁজে
প্রাচীন গ্রিসের ইতিহাস জানতে অফসিজন একটি ভালো সময়। একসময় বিশ্বের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত শহর ডেলফি এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি পাহাড়ের উঁচু পাথরের ওপর নির্মিত মঠের জন্য বিখ্যাত মেটিওরা অঞ্চল সারা বছর দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।
খেলাধুলার ইতিহাস জানতে চাইলে ঘুরে দেখা যায় অলিম্পিয়া শহর। এখানেই খ্রিস্টপূর্ব সাতশো ছিয়াত্তর সালে প্রথম অলিম্পিক প্রতিযোগিতার সূচনা হয়েছিল।
যাতায়াত পরিকল্পনায় সতর্কতা
অফসিজনে গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে বাস, ট্রেন ও ট্যাক্সি চলাচল স্বাভাবিক থাকে। তবে দ্বীপগুলোর মধ্যে বিমান ও ফেরির সংখ্যা কিছুটা কমে যায়। অনেক সময় এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যেতে রাজধানী এথেন্স হয়ে যেতে হতে পারে।
তবে এই সময় বিমান ও ফেরির ভাড়া তুলনামূলক কম থাকে। তাই আগেভাগে পরিকল্পনা করলে কম খরচে ইউরোপের অন্যতম ঐতিহাসিক দেশ ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।