যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫১৫ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতি হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম কাউন্সিলের বরাতে ইউরো নিউজ এ খবর দিয়েছে।

টুরিজম কাউন্সিল সংঘাত-পূর্ব পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, চলতি বছরে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১৭ হাজার ৮০০ কোটি ইউরোতে।
কিন্তু আকাশপথ বন্ধ ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সেই সম্ভাবনায় এখন বড় ধাক্কা পড়েছে। আবুধাবি, দুবাই, দোহা ও বাহরাইনের মতো আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলো দিয়ে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ২৬ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। বর্তমানে ফ্লাইট বাতিল ও সীমিত সূচির কারণে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক ট্রানজিট যাত্রীর প্রায় ১৪ শতাংশ বহন করে এবং আন্তর্জাতিক আগমনের ৫ শতাংশ এই অঞ্চলে হয়। ফলে এখানকার অস্থিরতা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যকার যাতায়াতেও প্রভাব ফেলছে।

বিমান চলাচল বিশ্লেষক সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এমিরেটস, ইতিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজ যথাক্রমে ৫২৭, ৩২৫ ও ৫৬৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। মার্চের শুরুতে তা নেমে আসে ৩০৯, ৫৬ ও ৬৬টিতে।

প্রবৃদ্ধিতে হঠাৎ থামার সঙ্কেত
মধ্যপ্রাচ্য ট্রাভেল অ্যালায়েন্সের বিপণন প্রধান ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলে পর্যটক আগমন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। বিশেষ করে ২০১৯ সালে অবকাশভিত্তিক পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর সৌদি আরবে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। তবে গত দুই সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ সেই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ সতর্কতা জারির পর বহু বুকিং বাতিল হয়েছে।

অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Tourism Economics সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে আগত আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা বছরওয়ারি ১১ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এতে পূর্বাভাসের তুলনায় ২ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ কম পর্যটক আসতে পারেন। ব্যয়ে ক্ষতি হতে পারে ২৯ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ।

উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব বড় আকারের আন্তর্জাতিক যাত্রী ও আকাশপথ নির্ভরতার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। অন্যদিকে কাতার ও বাহরাইনে স্থলপথে আগমনের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তারা কিছুটা কম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনই হতাশ হতে নারাজ শিল্পসংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী গ্লোরিয়া গেভারা বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে নিরাপত্তাজনিত সংকট কাটলে পর্যটন খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সরকার ও শিল্পখাত একযোগে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে পুনরুদ্ধার দুই মাসের মধ্যেও সম্ভব।

তবু আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘন। সংঘাতের তীব্রতা ও স্থায়িত্বই ঠিক করে দেবে, এই ক্ষতি সাময়িক থাকবে নাকি দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাতে রূপ নেবে।