বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির ধারায় আগামী দশকে জি২০ভুক্ত দেশগুলোতে পর্যটন খাতে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই খাতে প্রায় ১২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হতে পারে।
এই বিনিয়োগ শুধু পর্যটন শিল্পের বিস্তারই বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈশ্বিক পর্যটনে বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত
পর্যটন শিল্পবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল এক প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, আগামী দশকে জি২০ দেশগুলোর ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় পর্যটন খাতের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন আইটিবি বার্লিন সম্মেলনে। সেখানে উপস্থাপিত ‘ব্রিজিং দ্য গ্যাপ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিমান্ড গ্রোথ অ্যাক্রস দ্য জি২০’ শীর্ষক বিশ্লেষণে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে।
চাহিদা ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দশকে জি২০ দেশগুলো এবং স্পেনে ভ্রমণ ও পর্যটনের চাহিদা বছরে গড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বাড়বে। একই সময়ে এই খাতে মূলধনি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি হবে গড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন অবকাঠামো, বিমানবন্দর, হোটেল, পরিবহন এবং পর্যটনসেবার মান উন্নয়নে এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুরুতে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে
স্বল্প মেয়াদে পর্যটন চাহিদার তুলনায় বিনিয়োগের গতি কিছুটা কম থাকায় অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়তে পারে। এতে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় অতিরিক্ত পর্যটকের ভিড় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০৩৩ সালের পর পরিস্থিতি বদলাবে। তখন বিনিয়োগের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় বেশি হয়ে যাবে এবং পর্যটন অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।
জি২০ দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে জার্মানি ও স্পেন
বিনিয়োগ পরিকল্পনায় জি২০ দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে জার্মানি এবং স্পেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে জার্মানি প্রায় ৫৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে স্পেনের বিনিয়োগের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৩৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিনিয়োগ দেশ দুটির পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর
ডব্লিউটিটিসির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লোরিয়া গেভারা বলেছেন, ভবিষ্যতের পর্যটন চাহিদা সামাল দিতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে পর্যটন খাত থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান আসবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পর্যটনের গুরুত্ব
বিশ্বব্যাপী পর্যটন শিল্প ইতোমধ্যে বহু দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হয়ে উঠেছে। বিমান পরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন খাতে এই শিল্পের প্রভাব রয়েছে।