নিউজ ডেস্ক, বাংলার কলম্বাস
নিউজিল্যান্ডের নর্দার্ন এক্সপ্লোরার ট্রেন যাত্রা ৪২৩ মাইল দীর্ঘ, যা অকল্যান্ড থেকে ওয়েলিংটন পর্যন্ত বিস্তৃত। এই রুটটি দেশের সবচেয়ে নাটকীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যের মধ্য দিয়ে চলে, যেখানে আগ্নেয়গিরি, নদীর গিরিখাত এবং জাতীয় উদ্যান রয়েছে। পুরো যাত্রাটি প্রায় ১১ ঘণ্টার। যাত্রীদের জন্য এখানে খোলা আকাশের নিচে দৃশ্য দেখার বিশেষ ভিউয়িং কারেজের ব্যবস্থাও আছে।
নর্দার্ন এক্সপ্লোরার ট্রেনটি নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য তুলে ধরে। যাত্রা শুরু হয় অকল্যান্ড থেকে এবং শেষ হয় ওয়েলিংটনে। পথে ট্রেনটি টোঙ্গারিরো জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে যায়। এই জাতীয় উদ্যান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। এখানে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যার মধ্যে মাউন্ট রুয়াপেহু অন্যতম।
ট্রেনটি মাউন্ট নাউরুহোয়ে পাহাড়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, যা জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র লর্ড অব দ্য রিংস-এর দৃশ্যপট হিসেবেও পরিচিত। যাত্রাপথে পর্যটকেরা সেই চলচ্চিত্রের শুটিং হওয়া বেশ কিছু স্থান দেখতে পান, যেমন অ্যান্ডুইন নদী এবং মাউন্ট ডুম।
ট্রেনের খোলা আকাশের ভিউয়িং কারেজ যাত্রীদের কাচের কোনো বাধা ছাড়াই চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ দেয়। গ্রেট জার্নিজ নিউজিল্যান্ডের নির্বাহী ব্যবসায়িক নেতা ট্রেসি গুডাল বলেন, “নর্দার্ন এক্সপ্লোরার একদিনেই রেলপথে নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের সম্পূর্ণ বৈচিত্র্য দেখার অনন্য উপায়।”
যাত্রার সময় ট্রেনটি প্রায় ২ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় উঠে যায়। পথে অনেক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায়। যাত্রাপথে হ্যামিল্টন, ওটোরোহাঙ্গা, টাউমারুনুই, ওহাকুনে এবং পালমারস্টন নর্থ শহরে থামার ব্যবস্থাও রয়েছে।
একসময় এই যাত্রা নৌপথে সম্পন্ন করতে হতো, যা শেষ করতে কয়েক দিন সময় লাগত। কিন্তু রেলপথ চালু হওয়ার পর এখন এটি মাত্র এক দিনেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

নর্দার্ন এক্সপ্লোরার ট্রেনটি কয়েকটি বিশাল ভায়াডাক্ট বা উঁচু রেলসেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে। এর মধ্যে মাকাতোতে ভায়াডাক্ট সবচেয়ে উঁচু, যার উচ্চতা প্রায় ২৬০ ফুট। মাঙ্গানুই-ও-তে-আও ভায়াডাক্ট ১৯০৮ সালে নির্মিত হয় এবং এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো অকল্যান্ড রেলপথে ওয়েলিংটনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
রাঙ্গিতিকেই নদীর দৃশ্য এই যাত্রার অন্যতম আকর্ষণ। সাদা পাহাড়ি ঢাল এবং বাঁক নেওয়া নীল জলের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। গুডাল বলেন, “এই নদীটি সোজা সাদা পাহাড়ি ঢাল আর বাঁকানো নীল জলের মিলনে দেশের অন্যতম সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করেছে।”
নর্দার্ন এক্সপ্লোরার ট্রেনে যাত্রীদের জন্য একজন গাইড থাকেন। তিনি পুরো যাত্রার সময় বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করেন। যদিও পুরো যাত্রা প্রায় ১১ ঘণ্টার, তবে যাত্রীরা চাইলে মাঝপথে বিরতি নিয়ে এটিকে আরও দীর্ঘ করতে পারেন।
গুডাল জানান, “গত বছরে আমরা মনোরম দৃশ্যভিত্তিক রেলভ্রমণের প্রতি আগ্রহের উল্লেখযোগ্য পুনরুত্থান দেখেছি, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে।”
অকল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরুর পর আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীরা বাইরের বাতাস অনুভব করতে পারেন। গুডাল বলেন, “আপনার আর দৃশ্যের মধ্যে কোনো কাচের বাধা নেই। ফলে আপনি লোকোমোটিভের শব্দ শুনতে পারবেন, বাতাসের ঝাপটা অনুভব করবেন এবং কোনো প্রতিবিম্ব ছাড়াই ছবি তুলতে পারবেন।”
নর্দার্ন এক্সপ্লোরার নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন যাত্রাগুলোর একটি। এই ভ্রমণ দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাছ থেকে উপভোগ করার এক বিশেষ সুযোগ তৈরি করে। অনেক ভ্রমণপ্রেমীর কাছে এটি জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতার তালিকায় থাকা একটি ভ্রমণ।
নিউজিল্যান্ডের আধুনিক রেল স্টেশনগুলো যাত্রীদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করলেও নর্দার্ন এক্সপ্লোরার যাত্রা মূলত ভ্রমণের আনন্দ ও অভিজ্ঞতার ওপরই কেন্দ্রিত। এটি পর্যটকদের কাছে এমন একটি যাত্রা, যা তাদেরকে দেশের প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে।