বাণিজ্যিক বিমান ভ্রমণে বিলাসিতার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি এয়ারলাইনস ও বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের জন্য ব্যক্তিগত বাথরুমসংবলিত কেবিন চালুর পরিকল্পনা করছে। বাস্তবায়ন হলে ফার্স্ট ক্লাস ভ্রমণে গোপনীয়তা, আরাম ও ব্যক্তিগত সেবার মান নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত সেন্টার ফর এভিয়েশন (সিএপিএ) এয়ারলাইন লিডার সামিটে ভিডিও বার্তায় এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেন দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইন এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট টিম ক্লার্ক।

তিনি বলেন, ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের জন্য সংযুক্ত বা এন-স্যুইট বাথরুমের ধারণা নিয়ে কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এটি বিলাসবহুল বিমান ভ্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হতে পারে।

বিশ্বের বিমান পরিবহন খাতে প্রিমিয়াম শ্রেণির যাত্রীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্য অনুযায়ী, মোট যাত্রীর মাত্র ৩ শতাংশ বিজনেস ও ফার্স্ট ক্লাসে ভ্রমণ করলেও এ শ্রেণির যাত্রীরা বিমান সংস্থাগুলোর মোট আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশের উৎস।

একই সঙ্গে বাড়ছে প্রিমিয়াম ভ্রমণের চাহিদাও। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রিমিয়াম শ্রেণির যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১ কোটি ৬৯ লাখে পৌঁছেছে। ফলে উচ্চ আয়ের যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে নতুন নতুন সেবা ও সুবিধা যুক্ত করছে এয়ারলাইনসগুলো।

ফ্রান্সের জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স সম্প্রতি তাদের নতুন ‘লা প্রিমিয়ার’ স্যুইট উন্মোচন করেছে। এতে ব্যক্তিগত পোশাক সংরক্ষণের স্থান, আলাদা বসার ব্যবস্থা এবং পূর্ণদৈর্ঘ্যের বিছানার সুবিধা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে জার্মানির লুফথানসা কয়েক বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগে তৈরি করেছে তাদের নতুন ‘অ্যালেগ্রিস’ ফার্স্ট ক্লাস কেবিন।

বর্তমানে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে ব্যক্তিগত বাথরুমসহ সবচেয়ে আলোচিত ফার্স্ট ক্লাস সেবা হলো ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ‘দ্য রেসিডেন্স’। এতে শয়নকক্ষ, বসার ঘর এবং ব্যক্তিগত বাথরুমসহ তিন কক্ষের একটি উড়ন্ত অ্যাপার্টমেন্টের অভিজ্ঞতা পান যাত্রীরা। এটি বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল বিমান ভ্রমণসেবার মধ্যে গণ্য হয়।

এদিকে ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের একটি নতুন ধারণা প্রকাশ করেছে। এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ উড়োজাহাজের জন্য তৈরি ওই নকশায় দুই যাত্রীর জন্য প্রশস্ত ‘মাস্টার স্যুইট’, ডাবল বেড, ড্রেসিং এরিয়া, ব্যক্তিগত বার এবং সংযুক্ত বাথরুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এয়ারবাসের কেবিন মার্কেটিং প্রধান ইঙ্গো উগেটজার বলেন, বর্তমানে ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা। সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের কেবিন নকশা তৈরি করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ব্যক্তিগত পরিসর ও স্বাচ্ছন্দ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। সে কারণেই ফার্স্ট ক্লাস কেবিনগুলো ধীরে ধীরে ছোট হোটেল কক্ষ বা ব্যক্তিগত স্যুইটের আদলে রূপ নিচ্ছে।

যদিও ব্যক্তিগত বাথরুমসংবলিত অধিকাংশ কেবিন এখনও পরিকল্পনা ও নকশা পর্যায়ে রয়েছে, তবে এয়ারবাস জানিয়েছে তাদের এ৩৫০ উড়োজাহাজের জন্য ইতোমধ্যে ১০টি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের অর্ডার দিয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি এয়ারলাইনসের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩০ সালের দিকে নতুন প্রজন্মের এসব বিলাসবহুল কেবিন বাণিজ্যিক যাত্রীসেবায় যুক্ত হতে পারে। তখন আকাশপথের ফার্স্ট ক্লাস ভ্রমণ আরও ব্যক্তিগত, আরামদায়ক এবং অভিজাত অভিজ্ঞতায় রূপ নেবে।