হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনের জন্য পরিচিত সুনামগঞ্জে ঈদুল আজহার ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকার কথা থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পর্যটন কেন্দ্র ও বিলাসবহুল হাউসবোট নতুনভাবে সাজানো হলেও প্রত্যাশিত পর্যটক না আসায় হতাশ ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি), যাদুকাটা নদী, বারিকা টিলা, বড়গোপ টিলাসহ জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের উপস্থিতি অনেক কম। ফলে ঈদের মৌসুমেও পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে শতাধিক ছোট-বড় বিলাসবহুল হাউসবোট পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য তাহিরপুর অঞ্চলে এবার দেখা মিলছে না পর্যটকদের চিরচেনা ভিড়ের। ঈদুল আজহার পর সাধারণত যেসব দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে, সেসব এলাকাতেই এখন বিরাজ করছে নীরবতা।
স্থানীয়দের মতে, হাতেগোনা কয়েকজন স্থানীয় দর্শনার্থী ছাড়া অধিকাংশ পর্যটন এলাকা প্রায় ফাঁকা। এতে হাউসবোট মালিক, মাঝি, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ী, খাবারের দোকানদার এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার অধিকাংশ দর্শনীয় স্থানে নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। তবে বিভিন্ন কারণে এখনও সব নৌপথ পুরোপুরি সচল হয়নি। ফলে অনেক ভ্রমণপ্রেমী তাদের পরিকল্পনা স্থগিত বা বাতিল করেছেন।
নীলাদ্রি লেক এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, অন্য বছর ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। এবার এখনও তেমন কোনো পর্যটক আসেননি। ফলে দোকানে বেচাকেনাও নেই।
টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা মখলেছ বলেন, ঈদে যে পরিমাণ পর্যটক আসার কথা ছিল, তা হয়নি। বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রায় পর্যটকশূন্যই বলা যায়। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ ঘুরতে আসছেন।
বারিকা টিলা এলাকার বাসিন্দা জুবান মিয়া বলেন, ঈদের সময় এই টিলায় সাধারণত অনেক পর্যটক আসেন। অথচ এ বছর এখনও তেমন কোনো দর্শনার্থীর দেখা মেলেনি।
স্থানীয় ফটোগ্রাফার মাহফুজুর রহমান বলেন, অন্যান্য বছর ঈদের পরদিন থেকেই পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়ে যেত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজের ব্যস্ততা থাকত। কিন্তু এবার ঈদের দ্বিতীয় দিনেও পর্যটক না থাকায় অলস সময় কাটছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হলে এবং ভ্রমণ পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে ঈদের শুরুর এই মন্দা পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।