পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিকে ঘিরে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের বড় সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাহাড়, ঝরনা, লেক ও মেঘে ঘেরা জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে নতুনভাবে। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোও শেষ করেছে প্রস্তুতি। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোরদার করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত খাগড়াছড়ি সারা বছরই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্র। তবে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে জেলার পর্যটন খাত সবচেয়ে বেশি প্রাণ ফিরে পায়। এবারও আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝরনা, মায়াবিনী লেক, জেলা পরিষদ পার্কের ঝুলন্ত সেতু, তারেং ও সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্রে সংস্কার ও মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্নতা, বিশ্রামব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা বলেন, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসায় কিছুটা মন্দাভাব ছিল। তবে ঈদে পর্যটকের চাপ বাড়লে সেই ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

খাগড়াছড়ির আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী। স্থানীয় হোটেল মালিকরা জানান, জেলার প্রায় ৫০টির মতো হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট পর্যটক বরণে প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বুকিংও শুরু হয়েছে।

হোটেল গাইরিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, খাগড়াছড়ির পর্যটনসেবা সবসময়ই পরিবারবান্ধব। আন্তরিক পরিবেশে পর্যটকদের সেবা দিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে।

জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের তত্ত্বাবধায়ক কান্ত ত্রিপুরা জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়তি পর্যটক সমাগমকে সামনে রেখে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবার ভালো ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন তারা।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল, মোবাইল টিম ও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক নয়ন বড়ুয়া বলেন, প্রতিটি পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম এলাকায় ভ্রমণের সময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।