বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এসেছে এক ব্যতিক্রমী আন্তর্জাতিক সুযোগ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা Rosatom এবার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উত্তর মেরু বা নর্থ পোল ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর যাতায়াত, আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমাসহ প্রায় সব ধরনের ব্যয় বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি।

‘আইসব্রেকার অব নলেজ ২০২৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে।

ঢাকায় রুশ দূতাবাস ও রাশিয়া হাউজ ইন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করছে রোসাটোম। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৩ জুন। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে কয়েক ধাপে বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং জুন মাসের মধ্যেই নির্বাচিত শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

রোসাটোম জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো এক সময়ে উত্তর মেরু অভিমুখে এই বৈজ্ঞানিক অভিযান পরিচালিত হবে। অভিযানের মেয়াদ হবে ১০ দিন।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার জাহাজ 50 Let Pobedy-এ চড়ে উত্তর মেরু সফরের সুযোগ পাবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগও থাকবে এ অভিযানে।

এবারের আয়োজনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২২টি দেশ থেকে মোট ২২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। প্রতিটি দেশ থেকে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হবে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীর নিজ দেশ থেকে রাশিয়া যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া, হোটেলে থাকা, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা এবং উত্তর মেরু সফরের সব ব্যয় বহন করবে রোসাটোম। তবে রাশিয়ার ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত ফি শিক্ষার্থীকে নিজ খরচে বহন করতে হবে।

আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীর বয়স আগামী ২০ জুনের মধ্যে ন্যূনতম ১৪ বছর হতে হবে এবং ১ আগস্ট পর্যন্ত বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছরের মধ্যে থাকতে হবে।

আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আইসব্রেকার অব নলেজ আবেদন পোর্টাল-এ গিয়ে আবেদন করতে পারবেন।

কী এই আইসব্রেকার অব নলেজ

আইসব্রেকার অব নলেজ হলো রোসাটোমের একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মেরু অঞ্চল, জলবায়ু পরিবর্তন, আর্কটিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিবছর নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিশেষ বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ পায়।