বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ মানচিত্রে নারীর উপস্থিতি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দৃশ্যমান। বিশেষ করে একক ভ্রমণ বা সলো ট্রাভেল নারীদের কাছে পরিণত হয়েছে আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা ও আত্মঅন্বেষণের প্রতীক হিসেবে। ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য বলছে, পৃথিবীর মোট একক ভ্রমণকারীর প্রায় ৮৪ শতাংশই নারী। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে নারীদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক শহরগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ট্রাস্টেড হাউসসিটার্স।
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মানদণ্ডগুলো হলো সামগ্রিক নিরাপত্তা সূচক, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা। এসব দিক বিবেচনায় তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে সিঙ্গাপুর। শহরটির নিরাপত্তা স্কোর ৭৭ দশমিক ৫। প্রতি ছয় মিনিটে একবার গণপরিবহন পাওয়া যায়, যা একক নারী ভ্রমণকারীদের জন্য চলাচলকে সহজ ও নিশ্চিন্ত করেছে।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, স্পষ্ট সিটি লেআউট এবং সহজ নেভিগেশন সুবিধার কারণে শহরটি একক ভ্রমণে আগ্রহী নারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তৃতীয় স্থানে থাকা দুবাই নিরাপত্তা সূচকে চমক দেখিয়েছে। ১০০ নম্বরের মধ্যে শহরটির স্কোর ৮৩ দশমিক ৯, যা মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোর মধ্যে একে বিশেষভাবে এগিয়ে রেখেছে।
এ ছাড়া সেরা দশের তালিকায় রয়েছে টোকিও, সিউল, প্যারিস, আমস্টারডাম, আবুধাবি, লন্ডন ও ব্যাংকক। আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মিশেলে টোকিও ও সিউল যেমন নিরাপদ অভিজ্ঞতা দেয়, তেমনি প্যারিস ও আমস্টারডাম একক ভ্রমণকারীদের জন্য সংস্কৃতি ও শিল্প উপভোগের আদর্শ শহর। নবম স্থানে থাকা লন্ডন ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য পরিচিত ও আরামদায়ক গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তালিকার শেষ দিকে থাকলেও ব্যাংকক তার প্রাণবন্ত জীবনযাপন ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশের কারণে আলাদা আকর্ষণ ধরে রেখেছে।
ভ্রমণপিয়াসি নারীদের জন্য এসব শহর কেবল নিরাপদই নয়, বরং একাকী ভ্রমণের ভয় কাটিয়ে নতুন মানুষ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি করে। সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতার সঙ্গে একক ভ্রমণ হতে পারে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। আপনার পরবর্তী সলো অ্যাডভেঞ্চারের জন্য সিঙ্গাপুর কিংবা দুবাই হতে পারে নির্ভরযোগ্য পছন্দ।