শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পাহাড়, নদী, ঝরনা ও সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠেছে জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। একই সঙ্গে বেড়েছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকেই গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় করেন হাজারো পর্যটক। সবচেয়ে বেশি সমাগম দেখা যায় ‘প্রকৃতির কন্যা’ হিসেবে পরিচিত জাফলংয়ে। সেখানে মেঘালয়ের পাহাড়, ঝরনা ও ঝুলন্ত সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।
বরিশাল থেকে পরিবার নিয়ে জাফলংয়ে বেড়াতে আসা সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে জাফলংয়ে এসেছি। এখানকার পাহাড়, পানি ও ঝুলন্ত সেতুর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি। অনেক দিন পর পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে খুব ভালো লাগছে।’
পর্যটকদের আগমনে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় দোকানগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ফটোগ্রাফার, প্রসাধনসামগ্রীর দোকানি এবং পর্যটননির্ভর অন্যান্য পেশার মানুষের কাজও বেড়েছে।
জাফলং বিজিবি ক্যাম্প পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রায় সব হোটেল-মোটেলে আগাম কক্ষ বুকিং হয়েছে। অন্য ব্যবসায়ীরাও ভালো রোজগার করতে পারছেন। পর্যটকেরা যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন, সেদিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া বলেন, ‘দুর্গাপূজার ছুটিতে এ বছর জাফলংয়ে প্রচুর পরিমাণ পর্যটক এসেছেন। সামনের দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। পর্যটকদের আগমনে ব্যবসায়ীরাও ভালো ব্যবসা করতে পারছেন।’
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। আগত পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’