কক্সবাজারে দুর্গাপূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মেরিন ড্রাইভ এলাকার রিসোর্ট ও কটেজে অতিথির সংখ্যা কমেছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক পর্যটক সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এসব আবাসনের পরিবর্তে শহরের হোটেল বেছে নিচ্ছেন। তবে ছুটিকে কেন্দ্র করে শহরের হোটেলগুলোতে পর্যটকের চাপ বেড়েছে।
হোটেল ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হবে। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট খাতে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।
মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টে অতিথি কম
গত ১৭ অক্টোবর সকালে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে ১০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভ এলাকার রিসোর্ট ও কটেজের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইনানীর সালমান রিসোর্টের একটি কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের আগে রিসোর্টটির নয়টি কক্ষের মধ্যে সাতটিতে অতিথি ছিলেন। এরপর অতিথি চলে যাওয়ার পাশাপাশি ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং দেওয়া কক্ষও বাতিল হয়েছে।
পাশের পালকি রিসোর্ট, বিচ ভিউ ও ফাইন ডাইনেও অতিথির সংখ্যা কমেছে। তিনটি রিসোর্টে ৬০ জনের থাকার ব্যবস্থা থাকলেও সোমবার সেখানে ছিলেন মাত্র সাতজন।
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খানের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের পর মেরিন ড্রাইভ এলাকার ৮০টির বেশি রিসোর্ট ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে আছে। বিপরীতে শহরের হোটেল ও গেস্টহাউসে পর্যটকের চাপ বেড়েছে।
শহরের সৈকতগুলোতে পর্যটকের ভিড়
গত ১৫ অক্টোবর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে। হোটেলমালিক ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা তিন দিনের ছুটিতে অন্তত তিন লাখ পর্যটক সৈকত ভ্রমণ করেছেন।
সোমবার লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। কেউ সাগরে গোসল করেছেন, কেউ বালুচরে বসে সময় কাটিয়েছেন। অনেকে ঘোড়া ও বিচবাইকে চড়ে সৈকত ঘুরেছেন।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, তারকা মানের ২০টির বেশি হোটেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ এবং মাঝারি মানের হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসে একসঙ্গে ১ লাখ ৬৮ হাজার মানুষের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।
ঢাকার ব্যবসায়ী মাহবুবুল হক জানান, ইনানীর একটি রিসোর্টে থাকার পরিকল্পনা থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে তিনি শহরের হোটেল বেছে নিয়েছেন।
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে বাড়তি সমাগমের আশা
আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অন্তত ৪০০ প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের আশা, এ উৎসব দেখতে আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ মানুষের সমাগম হবে।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল জানান, উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসনও পর্যটকদের নিরাপত্তা, সেবার মান নিশ্চিত করা এবং প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ ও সেবা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছেন। পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানও পর্যটকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুরের আশা, ১০ দিনের ছুটিতে ১০ লাখ পর্যটক এলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে।