মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী শুকনাছড়া এলাকায় সবুজে ঘেরা উঁচু এক টিলা ঘিরে বাড়ছে পর্যটকদের আগ্রহ। স্থানীয়ভাবে ‘কাশ্মীর টিলা’ নামে পরিচিত এ স্থানটির চূড়া থেকে দেখা যায় চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, পশ্চিমের ন্যাড়া টিলা ও পূর্বের সেগুনবনের বিস্তৃতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানটি এখন জুড়ীর নতুন পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

টিলাটি অবস্থিত উপজেলার ৮ নম্বর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শুকনাছড়া এলাকায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণের জন্য প্রতিদিনই এখানে আসছেন দর্শনার্থীরা। ঈদ, পূজাসহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়ে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম জানান, কয়েক বছর আগে ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জুড়ীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে শুকনাছড়া টিলায় যান। পরে একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি টিলাটির সৌন্দর্য তুলে ধরে এর নাম দেন ‘কাশ্মীর টিলা’। এরপর স্থানীয়দের মধ্যে নামটি পরিচিতি পায়। শুরুতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা কম থাকলেও বর্তমানে এটি জুড়ী উপজেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

যেভাবে যাবেন কাশ্মীর টিলায়

কাশ্মীর টিলা দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রথমে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আসতে হবে। ট্রেনে এলে সিলেটগামী ট্রেনে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে নামতে হবে। বাসেও কুলাউড়া পৌঁছানো যায়।

কুলাউড়া থেকে বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জুড়ী বাজারে যেতে হবে। সেখান থেকে কচুরগুলগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কালামাটি এলাকায় পৌঁছানো যায়। জুড়ী বাজার থেকে এ এলাকার দূরত্ব প্রায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার।

কালামাটি এলাকায় পাশাপাশি থাকা দুটি ছোট দোকানের পাশের পিচঢালা পথ ধরে কিছুটা এগিয়ে ডান দিকে একটি কাঁচা সড়ক পাওয়া যাবে। ওই সড়ক ধরে প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটলেই টিলাটিতে পৌঁছানো যায়। মোটরসাইকেল বা রিজার্ভ করা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গেলে টিলার পাদদেশ পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব।

ভ্রমণে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

টিলার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গাছপালা রক্ষা করে ভ্রমণ করা জরুরি। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা, উচ্চ শব্দ এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় মানুষের ব্যক্তিগত জমি ও চলাচলের পথের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। বর্ষা বা বৃষ্টির পর কাঁচা পথ পিচ্ছিল থাকতে পারে, তাই হাঁটার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।