দুর্গাপূজার ছুটিতে পাহাড়, নদী ও ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। আলুটিলা, মায়াবিনী লেক ও জেলা পরিষদ পার্কসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাড়ছে দর্শনার্থীর উপস্থিতি। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ি হয়ে রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণেও যাচ্ছেন অনেকে। পর্যটক বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কে স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। কেউ ছবি তুলছিলেন, কেউ বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে এক দিনের সফরে আসা অন্তু দাশ জানান, তাঁরা কয়েকজন মিলে মাইক্রোবাসে ভোরে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। জেলা পরিষদ পার্ক, আলুটিলা ও রিচাং ঝরনা ঘুরে ফেরার পথে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের পাশের দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোও দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
জেলা পরিষদ পার্কের টিকিট বিক্রেতা মনতোষ ত্রিপুরা বলেন, সোমবার পার্কটিতে প্রায় ৭০০ পর্যটক প্রবেশ করেছেন। অন্য সময়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন।
সাজেকগামী গাড়ির আগাম বুকিং
পর্যটকের চাপ বেড়েছে পরিবহন খাতেও। খাগড়াছড়ি জিপ মালিক সমিতির লাইনম্যান সৈকত চাকমা বলেন, তাঁদের লাইনের বেশির ভাগ গাড়ি আগামী শনিবার পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। সোমবার সকালে প্রায় ১০০টি গাড়ি সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। মঙ্গলবারও একই সংখ্যক গাড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি জানান, গত রোববার থেকে পর্যটকেরা জিপ, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন আগাম বুকিং দিতে শুরু করেছেন।
রেস্তোরাঁয় ভিড়, হোটেলে মিশ্র চিত্র
পর্যটক বাড়ায় রেস্তোরাঁগুলোতে ব্যবসা বেড়েছে। খাগড়াছড়ির সিস্টেম রেস্তোরাঁর কর্মী আচিং মারমা বলেন, সোমবার দুপুরে এত বেশি ভিড় হয়েছিল যে অনেক পর্যটককে বসার জায়গা দিতে পারেননি। তাঁদের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তবে জেলা শহরের সব হোটেলে পর্যটকদের সমান উপস্থিতি নেই। হোটেলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা অনেক পর্যটক ভোরে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে সরাসরি সাজেক চলে যান। পরদিন ফিরে বিকেলে স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে রাতের গাড়িতে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। ফলে তাঁদের অনেকে খাগড়াছড়িতে রাত যাপন করেন না।
শহরের হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা জানান, তাঁদের অর্ধেকের বেশি কক্ষ আগামী শনিবার পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। তবে কয়েকটি ছাড়া অনেক হোটেলে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার পর্যটনকেন্দ্র ও পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন এবং কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন, সে জন্য প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।