পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, নদনদীর পানি ও বিভিন্ন অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন মাগুরার শ্রীপুর গ্রামের পরিবেশ ও জলবায়ু জাদুঘরে। দেশের প্রথম পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক এই জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে বিভিন্ন গাছের পাতা, বীজ, কাঠ, মাটি ও নদনদীর পানির নমুনা। প্রকৃতিকে কাছ থেকে জানা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে এই উদ্যোগ।

শাহীন রেজা রাসেলের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরটি পরিবেশপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও প্রকৃতিতে আগ্রহী দর্শনার্থীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী গন্তব্য।

জাদুঘরে কী কী দেখবেন

জাদুঘরে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছের পাতা, বীজ ও কাঠের দুই শতাধিক নমুনা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার মাটি এবং নদনদীর পানির নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে এখানে।

এসব উপকরণ দেখে দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, উদ্ভিদবৈচিত্র্য এবং মাটি ও পানির পার্থক্য সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য বইয়ে পড়া পরিবেশবিষয়ক বিষয়গুলো বাস্তব নমুনার মাধ্যমে বোঝার সুযোগ রয়েছে।

পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জানার সুযোগ

জাদুঘরটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো পরিবেশদূষণ নিয়ে সাজানো পোস্টার, ছবি ও প্রতিবেদন। এখানে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ এবং পরিবেশের ওপর দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিবার ও শিক্ষাসফরের জন্য কেমন

প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আগ্রহীদের জন্য জাদুঘরটি হতে পারে শিক্ষামূলক ভ্রমণের একটি গন্তব্য। শিশু-কিশোরদের নিয়ে ঘুরতে গেলে পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের আগ্রহ বাড়তে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসফর কিংবা পরিবেশবিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রমেও জাদুঘরটি কাজে আসতে পারে। তবে ভ্রমণের আগে জাদুঘরটির খোলার সময়, প্রবেশমূল্য ও দর্শনার্থীদের জন্য অন্যান্য সুবিধার তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।

কীভাবে যাবেন

মাগুরার শ্রীপুর গ্রামের পরিবেশ ও জলবায়ু জাদুঘরে যেতে প্রথমে মাগুরা জেলা সদরে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে শ্রীপুরগামী বাস বা স্থানীয় যানবাহনে যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে মাগুরাগামী বাসে উঠতে পারেন। মূল প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ বাসের ভাড়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং চেয়ার কোচের ভাড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

মাগুরা শহরে পৌঁছে নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে শ্রীপুরগামী বাসে যাওয়া যায়। ওই বাসের ভাড়া প্রায় ১৪ টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে স্থানীয় যানবাহন নেওয়া যেতে পারে।