জ্বালানি তেলের সংকটে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এলাকার ব্যতিক্রমধর্মী রেস্টুরেন্ট ‘প্রজেক্ট হিলশা’। একসময় যেখানে ছিল উপচে পড়া ভিড়, সেখানে এখন দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাশূন্য পরিবেশ। ভ্রমণনির্ভর এই রেস্টুরেন্টে মানুষের আগমন কমে যাওয়ায় ব্যবসায় নেমে এসেছে বড় ধরনের ধাক্কা।

গত শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল পরিসরের রেস্টুরেন্টটিতে হাতে গোনা কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া তেমন কোনো গ্রাহক নেই। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একজন গ্রাহকও প্রবেশ করেননি। সন্ধ্যার পর কয়েকজন এলেও খাবার না খেয়ে ফিরে যান।

রেস্টুরেন্টটির অন্যতম আকর্ষণ ওপেন কিচেন। এখানে গ্রাহকদের সামনে ইলিশ, চিংড়ি ও রূপচাঁদাসহ বিভিন্ন মাছ রান্না করা হয়। কিন্তু এখন সেখানে কাজের চেয়ে নিস্তব্ধতাই বেশি চোখে পড়ে। সাজানো মাছ থাকলেও নেই ক্রেতা।

কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আগের মতো গাড়ি নিয়ে আসতে পারছেন না। পাশাপাশি খাবারের দাম বেশি বলে অপপ্রচারও গ্রাহক কমার একটি কারণ।

রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিক্রির অবস্থা এতটাই খারাপ যে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় ১২০ জনের বেশি কর্মচারী থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র ৩০ থেকে ৩২ জন।

অর্ডার বয় হাবিবুর রহমান বলেন, বেশিরভাগ গ্রাহক ঢাকা থেকে আসতেন। এখন তেল সংকটে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি ব্যবহার করছেন না। ফলে এখানে আসা কমে গেছে।

আরেক কর্মী রমজান জানান, বিক্রি কমে যাওয়ায় আয় কমেছে, তবে মালিকপক্ষ নিয়মিত বেতন দেওয়ার চেষ্টা করছে।

রেস্টুরেন্টের ভেতরে ক্রেতা না থাকলেও বাইরে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। ইলিশ মাছের আদলে নির্মিত ভবনটি দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় অনেকে শুধু ছবি তুলতে আসেন। পাশেই শিমুলিয়া ও মাওয়া ঘাটে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ইলিশ খেতে গেলেও অনেকেই প্রজেক্ট হিলশায় না ঢুকে আশপাশের অন্যান্য হোটেলে চলে যাচ্ছেন।

ঢাকায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে এখানে ছবি তুলতে এসেছি। জায়গাটি দেখতে খুব সুন্দর, তবে খেতে যাচ্ছি অন্যত্র।

জানা গেছে, রেস্টুরেন্টটিতে একসঙ্গে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ বসে খেতে পারেন। দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে বাংলা, ইন্ডিয়ান, থাই ও কন্টিনেন্টাল খাবারের পাশাপাশি ইলিশের ১৩ ধরনের পদ পরিবেশন করা হয়। খাবারের দাম শুরু ৩৫০ টাকা থেকে, আর ইলিশসহ খাবার ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

জেনারেল ম্যানেজার মো. নিশাত জানান, ২০২১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। বাজারদর বাড়লেও খাবারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মার ইলিশ না থাকলে মেঘনা, চাঁদপুর বা ভোলার ইলিশ পরিবেশন করা হয়।

তিনি আরও জানান, এখানে শুধু ইলিশ নয়, বিভিন্ন ধরনের খাবার ও সেট মেনু রয়েছে, যাতে সব শ্রেণির মানুষ খেতে পারেন। অতিথিদের জন্য বিনামূল্যে পানীয় ও অন্যান্য সুবিধাও রাখা হয়েছে।