বিশ্বের সেরা ফুডি শহরের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে রয়েছে লোভনীয় স্ট্রিট ফুড এবং ১৬০টি মিশেলিন-তারকার (অ্যাওয়ার্ড ) রেস্তোরাঁ।

দুবাইয়ে পেস্তা-ভিত্তিক চকলেটের খোঁজ, ইতালিতে সেরা পিজ্জা খুঁজে বেড়ানো বা প্যারিসের সেরা বেকারি আবিষ্কারের চেষ্টা— খাবারকে কেন্দ্র করে ভ্রমণের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে, এবং এই প্রবণতা যে দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।

বিশ্বের সেরা ফুডি গন্তব্যগুলোর তালিকায় এবার শীর্ষে রয়েছে এমন একটি শহর, যেখানে একদিকে আছে বিলাসবহুল ডাইনিং, অন্যদিকে সাশ্রয়ী দামের অসাধারণ খাবার।

undefined

তালিকার এক নম্বরে আছে জাপানের প্রাণবন্ত শহর টোকিও। ঐতিহ্যবাহী সুশি থেকে শুরু করে জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড ইয়াকিতোরি (কাঠিতে গাঁথা গ্রিল করা মুরগি), রাজধানীটিতে রয়েছে খাঁটি জাপানি ও আন্তর্জাতিক খাবারের অসাধারণ বৈচিত্র্য।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রামেন, ৭/১১ কনভিনিয়েন্স স্টোরের জনপ্রিয় খাবার কিংবা ম্যাচা-স্বাদের মিষ্টান্ন— এসবের জন্য টোকিও ইতোমধ্যেই আলোচনায়। শহরটিতে রয়েছে প্রায় ১৬০টি মিশেলিন-তারকা প্রাপ্ত এবং ১২৪টি শীর্ষ-রেটেড রেস্তোরাঁ।

গাড়ি ভাড়া দেওয়া কোম্পানি ‘এসআইএক্সটি’র এর এক সমীক্ষায় বিশ্বের সেরা ফুড সিটিগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে ২০২৬ সালের খাবারকেন্দ্রিক ছুটির পরিকল্পনা শুরু করা যায়।

undefined

ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, এই গবেষণায় পর্যটকদের অনলাইন অনুসন্ধান আগ্রহ, উচ্চ-রেটিংপ্রাপ্ত খাবার আকর্ষণ, বিশ্বের ৫০টি সেরা রেস্তোরাঁ, মিশেলিন তারকা সংখ্যা এবং মোট খাদ্য-আকর্ষণের ভিত্তিতে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস, যা তার ঐতিহ্যবাহী বেকারি ও ঐতিহাসিক বিস্ত্রোর জন্য বিখ্যাত। বিশ্বমানের প্যাটিসেরি ও মনোমুগ্ধকর ক্যাফের জন্য পরিচিত হলেও খাবারের দিক থেকে প্যারিসের অফার আরও বিস্তৃত। এটি এখন ইউরোপের সেরা ফুড গন্তব্য এবং বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে। শহরটিতে রয়েছে ১৩১টি মিশেলিন-তারকা রেস্তোরাঁ, যা রুচিশীল খাদ্যপ্রেমীদের জন্য আদর্শ।

undefined
তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের আরেক শহর ওসাকা, যাকে প্রায়ই ‘জাপানের রান্নাঘর’ বলা হয়। এখানে বিখ্যাত অক্টোপাস বল (তাকোয়াকি) এবং স্যাভরি প্যানকেকসহ (ওকোনোমিয়াকি) নানা জনপ্রিয় খাবারের জন্ম।

পর্তুগালের দুটি শহরও শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। এর মধ্যে পোর্তো রয়েছে চতুর্থ স্থানে, আর লিসবনের স্থান নবম।
পোর্তো তার বিখ্যাত ওয়াইন সংস্কৃতির জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য। এখন এটি ৮৩টির বেশি খাবার আকর্ষণ এবং ৩২টি মিশেলিন-রেটেড রেস্তোরাঁ নিয়ে উচ্চমানের ও বৈচিত্র্যময় খাদ্য পরিবেশনের জন্যও পরিচিতি পাচ্ছে।

undefined

অন্যদিকে লিসবন সামুদ্রিক খাবারপ্রেমী এবং খাঁটি স্থানীয় স্বাদ খুঁজছেন, এমন ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ। দ্রুত বিকাশমান প্রিমিয়াম ডাইনিং দৃশ্যসহ শহরটিতে রয়েছে ৭৫টি উচ্চ-রেটিংপ্রাপ্ত খাবার আকর্ষণ, যার অনেকগুলোর রিভিউ স্কোর ১০-এর মধ্যে ৯-এর বেশি, যা শীর্ষ দশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে খাবারপ্রেমীদের জন্য বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে এই শহরগুলো।

তালিকায় থাকা ১০ শহর
১. টোকিও, জাপান
২. প্যারিস, ফ্রান্স
৩. ওসাকা, জাপান
৪. পোর্তো, পর্তুগাল
৫. লন্ডন, যুক্তরাজ্য
৬. সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া
৭. নিউ ইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
৮. ব্যাংকক, থাইল্যান্ড
৯. লিসবন, পর্তুগাল
১০. সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর