বাংলার কলম্বাস ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের সবথেকে পুরনো এবং ঐতিহাসিক ভারতীয় রেস্তোরাঁ 'বীরস্বামী' বন্ধের হাত থেকে বাঁচাতে রাজা চার্লসের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিক ও আন্দোলনকারীরা। ১৯২৬ সালের মার্চ মাসে লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটে যাত্রা শুরু করা এই রেস্তোরাঁটি ১০০ বছর ধরে ব্রিটিশ-ভারতীয় সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।

এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি পড়া যাবে এই লিংকে

ভিক্টরি হাউসে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটির ইজারা নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এর মালিকপক্ষ 'ক্রাউন এস্টেট'। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রেড-২ তালিকাভুক্ত এই ভবনটি আধুনিকায়ন করা হবে। ফলে রেস্তোরাঁটির বর্তমান প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাবে। ক্রাউন এস্টেট একটি স্বাধীন সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, এর লভ্যাংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয়।

রেস্তোরাঁটির সহমালিক রঞ্জিত মাথরানি এই সিদ্ধান্তকে 'অদূরদর্শী' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা ১০০ বছরের ইতিহাসকে ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছি। আমরা চাই রাজা যেন ক্রাউন এস্টেটকে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার নির্দেশ দেন।" তাঁর স্ত্রী নমিতা পাঞ্জাবি জানান, এই রেস্তোরাঁটি ২০০৯ এবং ২০১৭ সালে বাকিংহাম প্যালেসে রাজকীয় অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশন করেছে। হ্যামলেস বা লিবার্টির মতো বীরস্বামীও রিজেন্ট স্ট্রিটের অন্যতম প্রাচীন ভাড়াটিয়া।

রেস্তোরাঁটি রক্ষার দাবিতে করা একটি পিটিশনে ইতিমধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ সই করেছেন। এতে রেমন্ড ব্লঁ ও মিশেল রক্সের মতো বিশ্বখ্যাত শেফরাও সংহতি জানিয়েছেন। ২০১৬ সালে মিশেলিন স্টার পাওয়া এই রেস্তোরাঁটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর বোমাবর্ষণের (ব্লিৎজ) মধ্যেও চালু ছিল।

অন্যদিকে, ক্রাউন এস্টেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবনটিকে আধুনিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সংস্কার অপরিহার্য। তারা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিয়েছে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে ক্রাউন এস্টেটের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। তবে ঐতিহ্যপ্রেমীদের আশা, ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠানটি তার আদি স্থানেই টিকে থাকবে।