স্যামন বা টুনার মতো দামী বিদেশি মাছ নিয়মিত খাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, আমাদের দেশেই এমন অনেক মাছ আছে যেগুলোর পুষ্টিগুণ বিদেশি মাছের কাছাকাছি। সঠিক মাছ বেছে নিলেই মিলতে পারে ওমেগা থ্রি, উচ্চমানের প্রোটিন ও গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন।
নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ খেলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও মস্তিষ্কের নানা সমস্যার ঝুঁকি কমে। এসব মাছে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, আয়োডিন ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দিনাজপুরের ‘রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর পুষ্টিবিদ লিনা আকতার বলেন, সামুদ্রিক মাছ বলতে আমরা সাধারণত স্যামন, টুনা বা ম্যাকারেলের কথা ভাবি। কিন্তু বাংলাদেশেও এমন অনেক মাছ আছে, যেগুলো থেকে প্রায় একই ধরনের পুষ্টি পাওয়া যায়।
রূপচাঁদা
বাংলাদেশের জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ রূপচাঁদা সাদা-রূপালি রঙের এবং স্বাদে অত্যন্ত কোমল। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২ ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড।
কোরাল মাছ
লালচে রঙের কোরাল মাছ হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বেশ জনপ্রিয়। প্রোটিনসমৃদ্ধ এই মাছ রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লইট্টা
লইট্টা মাছ কাঁচা ও শুকনা দুইভাবেই খাওয়া হয়। শুঁটকি হিসেবে পরিচিত এই মাছ কম ক্যালরিযুক্ত হলেও প্রোটিনে ভরপুর।
চিংড়ি
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য চিংড়ি। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, আয়রন ও জিঙ্ক, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
পারা মাছ
গভীর সাগরের এই লালচে মাছ গ্রিল বা ফ্রাই করে খাওয়া হয়। এতে আছে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি, ভিটামিন ডি, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম।
ইলিশ
জাতীয় মাছ ইলিশ মূলত সামুদ্রিক উৎসের। এতে পাওয়া যায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ওমেগা থ্রি, ভিটামিন বি-১২ ও ম্যাগনেসিয়াম।
বাটা ও তেলাপিয়া
এই মাছের কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতেও টিকে থাকে। এতে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ফসফরাস ও ওমেগা থ্রি।
পাঙ্গাস
মিঠা ও আধা লবণাক্ত পানিতে পাওয়া যায় পাঙ্গাস। এতে প্রোটিনের পাশাপাশি রয়েছে ওমেগা থ্রি, ভিটামিন ডি ও সেলেনিয়াম, যা হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।