মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের জোহর রাজ্য শুধু সিঙ্গাপুর-সংলগ্ন অবস্থান বা আধুনিক নগরজীবনের জন্য নয়, বরং সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতির জন্যও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার, পারিবারিক আতিথেয়তা এবং স্বতন্ত্র রন্ধনপ্রণালী ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। বিশেষ করে স্থানীয় পরিবারের আমন্ত্রণে পরিবেশিত খাবারে জোহরের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র উঠে আসে।
জোহর রাজ্যের রাজধানী জোহর বাহরু, যা স্থানীয়দের কাছে "জেবি" নামে পরিচিত, সিঙ্গাপুর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। শহরে পৌঁছানোর পর প্রথমে নাসি গোরেং দাগিং ও নাসি গোরেং আয়ামের স্বাদ নেওয়া হলেও খাবারের স্বাদ ও গন্ধ সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তবে সামুদ্রিক খাবার দিয়ে তৈরি নাসি গোরেং তুলনামূলকভাবে বেশি পছন্দ হয়েছে।
পরদিন স্থানীয় একটি মালয় পরিবারের আমন্ত্রণে ঐতিহ্যবাহী খাবারের আসর বসে। সেখানে পরিবেশন করা হয় মালয়েশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার নাসি লেমাক। নারকেলের দুধ ও পান্দান পাতার সুবাসে রান্না করা এই ভাতের সঙ্গে ছিল ভাজা সামুদ্রিক মাছ, ভাজা চিনাবাদাম, ইকান বিলিস নামে পরিচিত মচমচে ছোট মাছ এবং ঝাল চিংড়ির পদ সাম্বাল উদাং।
অতিথি আপ্যায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশন করা হয় তেলুর পিন্দাং, যা দীর্ঘ সময় ভেষজ, মসলা ও সয়া সসে সেদ্ধ করা বিশেষ ধরনের ডিম। এই পদ্ধতিতে প্রস্তুত ডিম সাধারণ তাপমাত্রায়ও প্রায় দুই সপ্তাহ ভালো থাকে। জোহর অঞ্চলের বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথিদের তেলুর পিন্দাং উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য এখনো প্রচলিত।
খাবারের শেষে পরিবেশন করা হয় দুটি জনপ্রিয় মালয় মিষ্টান্ন। সেরি মুকা, যা আঠালো চাল, নারকেলের দুধ ও পান্দানের কাস্টার্ড দিয়ে তৈরি দুই স্তরের একটি ভাপানো মিষ্টি। আর কুইহ কাসউই পান্দান তৈরি হয় চালের গুঁড়া, স্টার্চ ও পান্দান পাতার রস দিয়ে, যার ওপর নারকেল কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়। পানীয় হিসেবে পরিবেশন করা হয় আদার স্বাদযুক্ত কোমল পানীয় জিঞ্জার এল, যা স্থানীয়দের কাছে হজমে সহায়ক পানীয় হিসেবে জনপ্রিয়।
স্থানীয়দের মতে, জোহরে খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত রেস্তোরাঁ থেকেই খাবার সংগ্রহ করেন। ফলে শহরের প্রায় সর্বত্র ছোট-বড় খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের প্রকৃত সংস্কৃতি জানতে স্থানীয় খাবারের বিকল্প নেই। জোহরের মতো গন্তব্যে স্থানীয় পরিবারের আতিথেয়তা এবং ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালী ভ্রমণকারীদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। একই সঙ্গে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় দেশি-বিদেশি নানা ধরনের খাবারের পাশাপাশি স্থানীয় বিশেষ পদও সহজেই পাওয়া যায়।
জোহরের উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্যবাহী খাবার
নাসি লেমাক
নাসি গোরেং
সাম্বাল উদাং
ইকান বিলিস
তেলুর পিন্দাং
সেরি মুকা
কুইহ কাসউই পান্দান