কাপ্তাই লেকের শান্ত জলে এখন ভাসছে স্থবিরতা। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে রাঙ্গামাটির পর্যটন বোটগুলো ক্রমেই অচল হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিতে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে সম্ভাবনাময় এই খাত বড় ধরনের মন্দায় পড়তে পারে।
রাঙ্গামাটির প্রধান আকর্ষণ কাপ্তাই লেক ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটন কার্যক্রম অনেকটাই নির্ভরশীল মোটরচালিত বোটের ওপর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় বোটচালক ও ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন।
ঝুলন্ত সেতু এলাকার পর্যটন বোটঘাট ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি বোট নোঙর করে রাখা হলেও পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক বোটচালককে কাউন্টারে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়।
ঘাট সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রায় শতাধিক ট্যুরিস্ট বোটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৫০টির মতো সচল রয়েছে। এসব বোট চালাতে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ লিটার তেলের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ লিটার করে। এতে স্বাভাবিকভাবে বোট পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।
বোটচালক মো. সোহেল জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প তেল দিয়ে সীমিত দূরত্বে বোট চালিয়ে যে আয় হচ্ছে, তা দিয়ে খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক চালক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, পর্যটকেরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে লেকে ঘোরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি আয়ও কমে যাচ্ছে।
পর্যটন বোটঘাটের লাইনম্যান মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, এই সময়ে স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকে। শুক্রবারে ৮ থেকে ১০টি বোট ভাড়া হলেও অন্যান্য দিনে তা নেমে আসে ৩ থেকে ৫টিতে। জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাঙ্গামাটি ট্যুরিস্ট বোট মালিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী জানান, ঈদের পর থেকেই তেলের সংকট প্রকট হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক দিন পর পর তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ট্যুরিস্ট বোট সচল রাখতে ফিলিং স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এক দিন পর পর তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।