খাগড়াছড়ির দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ি অরণ্যে লুকিয়ে আছে ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তোজেংমা ঝরনা। গুহার মতো আকৃতি তৈরি করা দুটি পাহাড়ের দুই পাশ থেকে নেমে আসা পানির ধারা মিলেছে একই বিন্দুতে। নির্জন বন, পাথুরে ঝিরিপথ আর পাহাড়ের রহস্যময় পরিবেশের কারণে ঝরনাটি হতে পারে দুঃসাহসিক ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে দুর্গম পথ ও পিচ্ছিল পাথরের কারণে সেখানে যেতে প্রয়োজন সতর্কতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড।
দুর্গম পথে তোজেংমার খোঁজে
ঢাকা থেকে রাতের বাসে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পৌঁছে যাত্রা শুরু হয় আলমগীর টিলার উদ্দেশে। মোটরসাইকেলে প্রায় ২০ মিনিট যাওয়ার পর শুরু হয় পায়ে হাঁটা। ছয়জন ভ্রমণকারী ও পাঁচজন গাইডের দলটি উঁচু-নিচু টিলা, পাহাড়, ঝিরি ও ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।
পথটি অপরিচিত হওয়ায় একপর্যায়ে দলটি ভুল পথে একটি উঁচু পাহাড়ে উঠে পড়ে। পরে ফিরে এসে ঝিরিপথ ধরে আবার যাত্রা শুরু হয়। দুই পাশে ঘন জঙ্গল, মাথার ওপর গাছের ডালপালা এবং পায়ের নিচে পিচ্ছিল পাথর নিয়ে পানির স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে চলাই ছিল এই অভিযানের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ।
দুপুরের পর পানির শব্দ অনুসরণ করে প্রায় আধা ঘণ্টা এগোতেই দেখা মেলে তোজেংমার। সেখানে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা দুটি পাহাড়ের দুই পাশ থেকে পানির ধারা নেমে এসে মিলেছে একটি স্থানে। পাহাড়ের গুহাসদৃশ গঠন ও ঝরনার সাদা পানির সম্মিলনে তৈরি হয়েছে স্বতন্ত্র এক প্রাকৃতিক দৃশ্য।
ঝরনা দুটির উচ্চতা খুব বেশি নয়। তবে পাহাড়ের অদ্ভুত আকৃতি, পানির প্রবল স্রোত এবং চারপাশের নির্জনতা তোজেংমাকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। ঝরনার জলকণা ও ছবি তোলার উপযুক্ত জায়গার অভাবে এর সৌন্দর্য ক্যামেরায় পুরোপুরি ধারণ করা কঠিন।
এখনো অনেকের অচেনা
তোজেংমা এখনো অনেক ভ্রমণপ্রেমীর কাছে অপরিচিত। ঝরনার আশপাশে বসতি না থাকায় এর নামের অর্থ বা নামকরণের ইতিহাসও জানা যায়নি। দুর্গম পাহাড়ের আড়ালে থাকা এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং পরিবেশের ক্ষতি এড়িয়ে চলা জরুরি।
যেভাবে যাবেন
দেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে খাগড়াছড়ি হয়ে দীঘিনালায় যেতে হবে। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে আলমগীর টিলায় পৌঁছে স্থানীয় ও অভিজ্ঞ গাইডের সহায়তায় হাঁটা শুরু করতে হবে। দুর্গম পথের কারণে আগে থেকেই গাইডের সঙ্গে যোগাযোগ এবং যাত্রাপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা ভালো।
থাকা-খাওয়া ও ভ্রমণ প্রস্তুতি
দীঘিনালা বাজারে বিভিন্ন গেস্টহাউসে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আগে থেকে বুকিং করে নেওয়া সুবিধাজনক। আশপাশের খাবারের হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করা যায়।
ভ্রমণের সময় পর্যাপ্ত পানি, শুকনা খাবার, খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখতে হবে। পিচ্ছিল পাথর ও দুর্গম পথের জন্য উপযুক্ত জুতা ব্যবহার করা জরুরি। দলছুট হওয়া এড়িয়ে চলুন, স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন এবং সব বর্জ্য সঙ্গে ফিরিয়ে আনুন। ঝরনার স্রোত ও পাথরের ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপদ স্থান ছাড়া পানিতে নামবেন না।