পাহাড়ি বন, আঁকাবাঁকা দুর্গম পথ আর চূড়া থেকে বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন মৌলভীবাজারের কালা পাহাড়। সিলেট অঞ্চলের অন্যতম উঁচু পাহাড়ি চূড়া হিসেবে পরিচিত এই গন্তব্যটি অবস্থিত কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের বেগুনছড়া পুঞ্জি এলাকায়। পাহাড়ে হাঁটা ও প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে আগ্রহীদের জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয়।
দুর্গম পথ ও সবুজ পাহাড়ের হাতছানি
কালা পাহাড়ের প্রধান আকর্ষণ এর উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ, বনঘেরা ট্রেইল এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি। চূড়ায় পৌঁছাতে খাড়া ঢাল ও কোথাও কোথাও পাথুরে পথ পেরোতে হয়। তাই এখানে ভ্রমণের জন্য শারীরিক প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি।
পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ৯৮ ফুট। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে চূড়া থেকে আশপাশের পাহাড়ি ভূদৃশ্য এবং হাকালুকি হাওর এলাকার দৃশ্য দেখা যেতে পারে।
কালা পাহাড়ের আশপাশে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে। স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি এ অঞ্চলের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতায় বাড়তি মাত্রা যোগ করে। তবে বসতি এলাকায় প্রবেশের আগে স্থানীয়দের অনুমতি নেওয়া এবং তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।
যেভাবে যাবেন কালা পাহাড়ে
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে কুলাউড়া যাওয়া যায়। এরপর স্থানীয় যানবাহনে রবির বাজার হয়ে আজগরাবাদ চা-বাগান এলাকায় পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে বেগুনছড়া পুঞ্জির পথ ধরে স্থানীয় গাইডের সহায়তায় পাহাড়ের ট্রেইলে যাত্রা শুরু করা যায়।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কুলাউড়া থেকে কালা পাহাড়ের দূরত্ব আনুমানিক ৩৫ কিলোমিটার। পাহাড়ে ওঠা ও নেমে আসার জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় হাতে রাখা ভালো। ট্রেইলের অবস্থা, আবহাওয়া ও হাঁটার গতির ওপর সময় নির্ভর করবে।
ট্রেকিংয়ের উপযুক্ত সময়
বৃষ্টি কম এবং পাহাড়ি পথ তুলনামূলক শুকনো থাকলে কালা পাহাড়ে ট্রেকিং করা সুবিধাজনক। বর্ষায় প্রকৃতি আরও সবুজ হয়ে উঠলেও পথ পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যাত্রার আগে আবহাওয়া ও ট্রেইলের বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়া উচিত।
ভ্রমণে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
পাহাড়ে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি, শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী সঙ্গে রাখুন। স্থানীয় গাইডের সহায়তা নিন এবং একা দুর্গম পথে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। বৃষ্টি, বজ্রপাত বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় ট্রেকিং স্থগিত রাখুন।
পাহাড়, বন ও ঝিরিতে ময়লা ফেলবেন না। স্থানীয় বসতি বা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে চলুন।
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন থাকলে কালা পাহাড় হতে পারে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ভ্রমণকারীদের জন্য স্মরণীয় একটি গন্তব্য।