শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কটকা ও কচিখালী। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনে এসব এলাকায় প্রায় তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। বঙ্গোপসাগরের তীর, বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বন্যপ্রাণী দেখার আকর্ষণে ছুটির সময়ে সুন্দরবনমুখী হয়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের আওতাধীন কটকা এলাকায় চিত্রল হরিণ, বানর, বন্য শূকর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখার সুযোগ রয়েছে। বন ও সাগরের মিলিত প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতেও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই এলাকা।

কটকা পর্যটন এলাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান ইমরান জানান, গত বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তিন দিনে তিন হাজারের বেশি পর্যটক কটকা অফিসপাড়া ও জামতলা সমুদ্রসৈকত ঘুরে দেখেছেন। বনের মধ্যে চিত্রল হরিণ, বানর, বন্য শূকর ও মদনটাকসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখে পর্যটকেরা আনন্দিত হচ্ছেন।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সহসভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি পর্যটক সুন্দরবনে যাচ্ছেন। দুর্গাপূজার ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। ২০ অক্টোবর থেকে তিন দিনের ভ্রমণের জন্য টোয়াসের ৭০টি জাহাজে পর্যটকেরা আগাম বুকিং দিয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, টানা তিন মাস প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকার পর গত ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বনে হরিণ, বাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি বেড়েছে। নৌযানে ভ্রমণের সময় কখনো কখনো পর্যটকেরা বাঘকে খাল সাঁতরে পার হতেও দেখছেন। দুর্গাপূজার ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকের আগমন বেড়েছে।

সুন্দরবনের কটকা ও কচিখালী ভ্রমণে সাধারণত নৌযানের মাধ্যমে যেতে হয়। বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা ও বন সংরক্ষণের স্বার্থে পর্যটকদের বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।