‘বিশ্বের সেরা’ গণপরিবহন ব্যবস্থার শহরগুলোর তালিকায় এশিয়ার আধিপত্য দেখা গেছে।
২০২৬ সালের এই তালিকার শীর্ষ পাঁচটির মধ্যে তিনটিই এশিয়ার দখলে। প্রথম স্থানে তাইওয়ানের তাইপে, দ্বিতীয় স্থানে সিঙ্গাপুর এবং তৃতীয় স্থানে হংকং। তালিকাটি প্রকাশ করেছে ভ্রমণবিষয়ক সাময়িকী টাইম আউট।
২৪ হাজারের বেশি স্থানীয় বাসিন্দার মতামতের ভিত্তিতে এ জরিপ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থার মান মূল্যায়ন করতে বলা হয়। বাস, ট্রেন, মেট্রো ও ট্রামের মতো পরিবহন কতটা নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারবান্ধব—এসব বিষয় শহরগুলোর অভিজ্ঞতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তালিকার প্রথম স্থানে থাকা তাইপের মেট্রো ব্যবস্থা সময়ানুবর্তিতা ও পরিচ্ছন্ন স্টেশনের জন্য পরিচিত। স্টেশনের মেঝেতে যাত্রীদের সারিতে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ চিহ্নও রয়েছে। ২০২৫ সালে শহরটির মেট্রোতে প্রতিদিন আনুমানিক ২১ লাখ যাত্রা হয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের এমআরটি নেটওয়ার্কে রয়েছে ১৪৬টি স্টেশন। প্রতিদিন এই ব্যবস্থায় প্রায় ৩৫ লাখ যাত্রা হয় এবং ৯৯ শতাংশের বেশি ট্রেন সময়মতো চলে। গণপরিবহনে অসামাজিক আচরণের জন্যও সেখানে কঠোর জরিমানার বিধান রয়েছে।
তৃতীয় স্থানে থাকা হংকংয়ের রেলব্যবস্থায় ২০২৫ সালে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ যাত্রা সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে। শহরটির দ্বিতল বাসও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এসব বাসে যাতায়াতের পাশাপাশি শহরের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ডের এডিনবরা। স্থানীয় বাস ও ট্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে বিমানবন্দরের যোগাযোগ সহজ করেছে। পঞ্চম স্থানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল, যেখানে বিস্তৃত পাতালরেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো যায়।
ষষ্ঠ স্থানে আছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ, সপ্তমে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, অষ্টমে এস্তোনিয়ার তালিন, নবমে ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি এবং দশমে কলম্বিয়ার মেডেলিন। মেডেলিনের বিশেষ আকর্ষণ মেট্রোকেবল, যা কেবল কারের মাধ্যমে শহরের গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
তালিকার ১১ থেকে ২০ নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে চীনের সাংহাই, পোল্যান্ডের ওয়ারশ, জাপানের ওসাকা, সুইডেনের স্টকহোম, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, সৌদি আরবের রিয়াদ, জার্মানির হামবুর্গ, নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার এবং নরওয়ের অসলো।