ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চা-বাগান থেকে দক্ষিণের সমুদ্রতট, মাঝখানে ব্যস্ত শহর, সবুজ প্রান্তর ও বদলে যাওয়া জনজীবন। প্রায় ৭৪ ঘণ্টার রেলযাত্রায় দেশের নানা অঞ্চলের এই বৈচিত্র্য দেখার সুযোগ দেয় বিবেক এক্সপ্রেস। অসমের ডিব্রুগড় থেকে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ দীর্ঘ ট্রেনভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
এক যাত্রায় প্রকৃতি ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য
বিবেক এক্সপ্রেসের জানালা দিয়ে দেখা যায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও জনজীবনের পরিবর্তন। কোথাও বিস্তীর্ণ চা-বাগান, কোথাও জনবহুল শহর, আবার কোথাও সবুজে ঘেরা গ্রামীণ দৃশ্য। একাধিক রাজ্যের মধ্য দিয়ে যাত্রা করায় ভাষা, খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতির পার্থক্যও কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে।
কনটেন্ট নির্মাতা মমতা যাদব ও তাঁর দল এই ট্রেনে ডিব্রুগড় থেকে কন্যাকুমারী যাতায়াতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতায় দীর্ঘ রেলযাত্রার আকর্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের দৈনন্দিন ভোগান্তির চিত্রও উঠে এসেছে।
দীর্ঘ যাত্রায় ভিড় ও পরিচ্ছন্নতার চ্যালেঞ্জ
মমতা যাদবের প্রকাশিত ভিডিওতে বিবেক এক্সপ্রেসের সাধারণ কামরায় অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়। যাত্রীদের ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়, এমনকি কামরার ভেতরে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
মমতা ও তাঁর দল প্রথম দুই দিন সাধারণ কামরায় এবং পরের দুই দিন শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরায় ভ্রমণ করেন। সাধারণ কামরায় আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে আগে আসা যাত্রীরা সুবিধা পান। তবে এই শ্রেণিতে ভ্রমণের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীদের জীবনযাত্রা ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখার সুযোগও রয়েছে।
স্বামী বিবেকানন্দের নামে এই ট্রেন
২০১১-১২ সালের রেল বাজেটে বিবেক এক্সপ্রেস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। স্বামী বিবেকানন্দের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ট্রেনটি চালু করা হয়েছিল। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ এই রেলপথে ট্রেনটি প্রায় ৫৯টি স্টেশনে থামে।
যাত্রাপথের উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে গুয়াহাটি, কলকাতা, ভুবনেশ্বর ও তিরুবনন্তপুরম। অসম, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশা, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ও তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় ট্রেনটি।
ভ্রমণের আগে যা জানা জরুরি
বিবেক এক্সপ্রেসে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে টিকিটের প্রাপ্যতা, আসনের শ্রেণি, যাত্রার সময় ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আগে যাচাই করা উচিত। দীর্ঘ যাত্রার জন্য খাবার, পানীয় জল, ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও প্রস্তুতি রাখা ভালো। ট্রেনের সময়সূচি, স্টপেজ ও ভাড়ার তথ্য ভ্রমণের তারিখ অনুযায়ী ভারতীয় রেলের সরকারি মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।