চীন ভ্রমণ, ব্যবসা কিংবা উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় নথি, ফি ও আবেদনকেন্দ্রের নিয়ম আগে থেকেই জেনে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে, ভারতে চীনের ভিসা আবেদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের খবর দেখে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ, ভারতের জন্য ঘোষিত পরিবর্তন বাংলাদেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের ঢাকায় চীনা ভিসা আবেদনকেন্দ্রের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
কোথায় ও কীভাবে আবেদন করবেন?
বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ পাসপোর্টধারীদের চীনের ভিসা এবং কনস্যুলার নথি বৈধকরণের জন্য ঢাকার চীনা ভিসা আবেদনকেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
আবেদনকারীদের প্রথমে ভিসা আবেদনকেন্দ্রের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে প্রাথমিক পর্যালোচনার ফল জানতে হবে। আবেদনপত্র ও নথি যাচাইয়ের পর কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদনকেন্দ্রের ঠিকানা: তৃতীয় তলা, প্রসাদ ট্রেড সেন্টার, ৬ কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানী, ঢাকা।
আবেদন জমা ও ফি পরিশোধ: রোববার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা।
পাসপোর্ট ও নথি সংগ্রহ: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা।
ফোন: ০২২২৬৬০৩২৬১
ই-মেইল: dhakacenter@visaforchina.org
ছুটির দিনে সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। তাই কেন্দ্রে যাওয়ার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
চীনের ভিসার ফি কত?
চীনের ভিসার ফি নির্ভর করে প্রবেশের সংখ্যা, ভিসার ধরন এবং আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময়ের ওপর। চীনা দূতাবাসের ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ফি কমানোর ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ প্রক্রিয়ায় একবার প্রবেশের ভিসার ফি ২ হাজার ৪০০ টাকা, দুবার প্রবেশের ভিসার ফি ৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং ছয় মাস মেয়াদি একাধিকবার প্রবেশের ভিসার ফি ৪ হাজার ৮০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্রুত বা জরুরি প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে অতিরিক্ত ফি লাগতে পারে। এ ছাড়া আবেদনকেন্দ্রের পরিষেবা ফি প্রযোজ্য হতে পারে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি তালিকা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
ভারতে চীনের ভিসা আবেদনে কী পরিবর্তন?
ভারতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে নয়াদিল্লির চীনা ভিসা আবেদনকেন্দ্র নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করবে। এরপর ভারতের আবেদনকারীদের নির্ধারিত নিয়মে সরাসরি চীনা দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটে আবেদন জমা দিতে হবে।
তবে এ পরিবর্তন ভারতের আবেদনকারীদের জন্য। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে একই নিয়ম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই ভারতসংক্রান্ত খবরের ভিত্তিতে বাংলাদেশের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
আবেদনের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
আবেদনপত্রে সঠিক তথ্য দেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি যথাযথভাবে আপলোড করা এবং আবেদনকেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। আবেদন জমা দেওয়ার পর অনলাইনে আবেদনের অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। অতিরিক্ত নথি বা সাক্ষাৎকারের নির্দেশনা এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অনুসরণ করা উচিত।
ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার দাবি করা অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন। আবেদন ও ফি-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য চীনা দূতাবাস এবং ঢাকার চীনা ভিসা আবেদনকেন্দ্রের সরকারি নির্দেশনাকেই অগ্রাধিকার দিন।