ভারতের চণ্ডীগড়ের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সুখনা হ্রদ এবার আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমির স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৯৭১ সালের রামসার কনভেনশনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জলাভূমিটির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশগত গুরুত্ব আন্তর্জাতিকভাবে আরও স্বীকৃতি পেল। পাহাড়ের ছায়ায় শান্ত পরিবেশ, নৌভ্রমণ ও শীতকালে পরিযায়ী পাখি দেখার সুযোগ থাকায় এটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্যও আকর্ষণীয় গন্তব্য।

রামসার তালিকায় সুখনা হ্রদ

২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর সুখনা জলাভূমিকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। রামসার তালিকায় এর পরিচিতি নম্বর ২৬০২। ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব জানান, সুখনা হ্রদ ও উত্তর প্রদেশের সৌজ ঝিলের অন্তর্ভুক্তির ফলে দেশটিতে রামসার স্বীকৃত জলাভূমির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩টিতে।

১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে জলাভূমি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক এই চুক্তি গৃহীত হয়। এর লক্ষ্য জলাভূমির জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা।

পাহাড়ের কোলে সুখনা হ্রদ

চণ্ডীগড়ের সেক্টর ১-এ অবস্থিত সুখনা হ্রদ ১৯৫৮ সালে তৈরি করা হয়। শিবালিক পাহাড় থেকে নেমে আসা মৌসুমি সুখনা ছোয়ে জলধারায় বাঁধ নির্মাণ করে এই জলাধার গড়ে তোলা হয়।

হ্রদের চারপাশে সবুজ পরিবেশ, খোলা আকাশ ও পাহাড়ের দৃশ্য দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। সকালে হাঁটাহাঁটি, বিকেলে পানির ধারে সময় কাটানো এবং সূর্যাস্ত দেখা এখানকার জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা।

নৌভ্রমণ ও পরিযায়ী পাখি

সুখনা হ্রদে প্যাডেল বোটে চড়ে পানির ওপর থেকে আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। নৌভ্রমণের জন্য নির্ধারিত টিকিট কিনতে হয়। হ্রদের পাড় ধরে হাঁটা ও দৌড়ানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

শীতকালে বিভিন্ন প্রজাতির জলচর ও পরিযায়ী পাখি দেখতে এখানে আসেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। হ্রদের এক প্রান্তে রয়েছে গার্ডেন অব সাইলেন্স, যেখানে বুদ্ধের একটি মূর্তি রয়েছে। নিরিবিলি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য বাগানটি ঘুরে দেখতে পারেন।

কখন যাবেন, কীভাবে পৌঁছাবেন?

চণ্ডীগড়ের সেক্টর ১-এ অবস্থিত সুখনা হ্রদ প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য নেই। তবে নৌভ্রমণের জন্য আলাদা টিকিট প্রয়োজন। সময়সূচি ও নৌভ্রমণের ব্যবস্থা পরিবর্তিত হতে পারে।

শীতকাল পাখি দেখার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। তবে হাঁটাহাঁটি, ছবি তোলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে বছরের অন্য সময়েও যাওয়া যায়।

বাংলাদেশ থেকে যেতে হলে প্রথমে ভারতের চণ্ডীগড়ে পৌঁছাতে হবে। চণ্ডীগড়ের শহীদ ভগৎ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি বা স্থানীয় যানবাহনে হ্রদে যাওয়া যায়। ট্রেনে গেলে চণ্ডীগড় রেলস্টেশনে নেমে অটোরিকশা বা ট্যাক্সি নেওয়া যায়। ভ্রমণের আগে ভারতীয় ভিসা ও যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

কাছেই রয়েছে রক গার্ডেন

সুখনা হ্রদ ভ্রমণের সঙ্গে একই দিনে ঘুরে দেখতে পারেন রক গার্ডেন। শিল্পী নেক চাঁদের তৈরি এই বাগানে পরিত্যক্ত ও পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে তৈরি নানা ভাস্কর্য রয়েছে। এতে একই ভ্রমণে চণ্ডীগড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শিল্পকর্ম দেখার সুযোগ মিলবে।