দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরুর আগেই পর্যটকের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা আসছেন সৈকতনগরীতে। কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে বাড়ছে মানুষের ভিড়। পর্যটকদের আগমনে জেলার হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও বেড়েছে ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে অনেক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ ছবি তুলে ছুটির মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখছেন।

ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে আসা পর্যটক হুজাইফা আমিন বলেন, ‘অনেক দিন পর কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় সৈকতে এসে বেশ ভালো লাগছে। সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছি, পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাচ্ছি।’

পর্যটক রাখী রহমান প্রথমবারের মতো সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন। তিনি বলেন, কর্মব্যস্ত জীবন থেকে ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। বিশেষ করে সন্তানকে সমুদ্রসৈকতে আনন্দ করতে দেখে তাঁর ভালো লাগছে।

পাঁচ দিনে ছয় লাখ পর্যটকের প্রত্যাশা

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, পূজার দীর্ঘ ছুটি শুরুর আগেই পর্যটকের এমন সমাগম তাঁদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে এক লাখের বেশি পর্যটক আসতে পারেন বলে আশা করছেন তিনি। সেই হিসাবে পাঁচ দিনে ছয় লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগেই আগাম কক্ষ বুকিং হচ্ছে। অনেক হোটেলে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।

শহরের প্রধান সৈকত ছাড়াও মেরিন ড্রাইভ ও হিমছড়ি ঝরনাসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও বাড়তি আয়ের আশা করছেন।

নিরাপত্তায় সতর্ক লাইফগার্ড, নজরদারিতে প্রশাসন

পর্যটকদের নিরাপত্তায় কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন লাইফগার্ড সদস্যরা। সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, পানিতে নামার পর যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তাঁরা সতর্ক রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও ভাটার সময় সতর্কতার অংশ হিসেবে লাল পতাকা টাঙানো হয়।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন খাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা তাঁদের অগ্রাধিকার। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া ও হয়রানি ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়ার সম্ভাবনায় আবাসন ও পর্যটনসেবা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তা ও সেবার মান বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।