রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই সাত শতাধিক পর্যটক প্রবেশ করেছেন। দুর্গাপূজার ছুটিকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর পর্যটন কার্যক্রম চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও সাজেক সড়কে অবরোধের কারণে গত কয়েক দিন পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেক সড়কের অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনও পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর শুক্রবার সকাল থেকেই পর্যটকেরা সাজেক যেতে শুরু করেন। বিকেলের বহরে আরও পর্যটক আসতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সাজেকের পরিবহন লাইনম্যান ইয়াসির আরাফাত জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অবরোধ স্থগিতের খবর পেয়ে পর্যটকেরা সাজেক আসতে শুরু করেছেন। শুক্রবার সকালের বহরে প্রায় সাত শতাধিক পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন। বিকেলের বহরেও আরও পর্যটক আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহন ও খাবারের দোকানসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসাগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন বলেন, সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি পর্যটকদের প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি ভ্রমণের আগে সড়কের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। দুর্গাপূজার ছুটিতে সাজেক ভ্রমণে আগ্রহীদের আগাম বুকিং দিয়ে আসারও অনুরোধ জানান তিনি।