শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও টানা অবকাশ ঘিরে পর্যটকে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের দুই জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও কুয়াকাটা। পরিবার-পরিজন নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ, সৈকতে ঘোরাঘুরি এবং দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকের বাড়তি চাপে আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।

কক্সবাজারে ১০ লাখ পর্যটকের প্রত্যাশা

দীর্ঘ ছুটিতে কক্সবাজারে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ধারণা, এই সময়ে হোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট খাতে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।

হোটেলমালিকদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার অন্তত তিন লাখ পর্যটক সৈকত ভ্রমণ করেছেন। শহরের তারকামানের ২০টির বেশি হোটেলে প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ এবং মাঝারি মানের হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, অবশিষ্ট কক্ষগুলোও এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বুকিং হয়ে যেতে পারে। এবার কক্ষভাড়ায় ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে প্রশাসন তদারকি করছে।

হোটেল কক্স টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব জানান, তাঁদের হোটেলের ৮৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অতিথির চাপ থাকবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুরও পর্যটকের সমাগম ১০ লাখ ছাড়ালে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

সৈকত ও দর্শনীয় স্থানে ভিড়

কক্সবাজারের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। কেউ সমুদ্রস্নান করছেন, কেউ ঘোড়া, বিচবাইক ও জেটস্কিতে চড়ছেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি তুলে ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখছেন।

এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝরনা, দরিয়ানগর, ইনানী ও পাটুয়ারটেকেও পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার ফাহিম ফয়সাল বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পর্যটন এলাকাগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া এসআরবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরাও নিয়োজিত রয়েছেন। সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে লাইফগার্ড সদস্যরা সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।

কুয়াকাটায় কার্নিভাল ঘিরে বাড়তি ব্যস্ততা

দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়ও বেড়েছে পর্যটকের সমাগম। সৈকতের পাশাপাশি রাখাইন পল্লি মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে ভিড় বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা আছে। বুধবার সেখানে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে বলে তিনি জানান।

তবে হোটেল বুকিংয়ের চিত্র সব জায়গায় এক রকম নয়। হোটেল ডি’মোরের পরিচালক জয়নুল আবেদিন জুয়েল জানান, তাঁদের ৫৭টি কক্ষের সবগুলো ২১ ও ২২ অক্টোবর বুকিং ছিল। ২৩ অক্টোবর বুকিং রয়েছে ৫০ শতাংশ, আর ২৪ অক্টোবর কোনো বুকিং নেই।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের মহাব্যবস্থাপক এমজি মোর্শেদ খান জানান, তাঁদের ৪৩টি কক্ষই ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং রয়েছে।

গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা লায়লা শিরিন বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিশাল সৈকত ও মনোরম পরিবেশ তাঁদের মুগ্ধ করেছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে এসে পর্যটন কার্নিভালের আমেজও উপভোগ করছেন তাঁরা।

পর্যটকের চাপ বাড়ায় কুয়াকাটাতেও নিরাপত্তা ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান।

দুই সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের এই সমাগম স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় গতি এনেছে। তবে ছুটির সময় ভ্রমণকারীদের জন্য হোটেল বুকিং নিশ্চিত করা, ভাড়া সম্পর্কে আগেই জেনে নেওয়া এবং সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।