কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় পর পর্যটকদের জন্য আবার খুলে দেওয়া হয়েছে রাঙামাটির বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় বন্ধ থাকা সেতুটি প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে ১৪ অক্টোবর বিকেলে দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এতে রাঙামাটি ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণটি ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা।

তিনি জানান, চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো গত ১১ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায় সেতুটি। ঝুঁকি এড়াতে ওই দিন থেকেই পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গত ১২ অক্টোবর থেকে হ্রদের পানি কমতে শুরু করলে ধীরে ধীরে সেতুটি দৃশ্যমান হয়। পরে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষে এটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

এর আগে, গত ২৯ আগস্ট টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে সেতুটি তলিয়ে যায়। পানি কমে ৪ সেপ্টেম্বর সেতুর অধিকাংশ অংশ দৃশ্যমান হলে মেরামত শেষে ৫ সেপ্টেম্বর তা খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে ১১ সেপ্টেম্বর আবারও পানির নিচে চলে যাওয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে যায় পর্যটকদের প্রবেশ।

বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে প্রায়ই সেতুটি তলিয়ে যায়। এতে সেতু দেখতে আসা অনেক পর্যটক হতাশ হয়ে ফিরে যান। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পর ১৯৮৬ সালে নির্মিত ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই ঝুলন্ত সেতু রাঙামাটির অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ। দুই পাহাড়ের মাঝখানে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত সেতুটি দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা আসেন।

তবে বর্ষায় বারবার সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া এবং সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখতে হওয়ায় পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে হ্রদের পানির উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।