শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। সবুজ চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, পাহাড়ি টিলা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। ছুটির সময়ে ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৫ হাজার ৩২২ জন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে বন বিভাগের রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ লাখ ৫২ হাজার ১৭২ টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে অফিস-আদালত খুলে যাওয়ায় ছুটি কাটিয়ে পর্যটকেরা নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। ছুটির শেষ দিন শনিবার শ্রীমঙ্গল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ফেরা মানুষের ভিড় ছিল বাস ও ট্রেনে। টিকিট না পেয়ে কিছু যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করতে হয়েছে।

চা-বাগান ও বনাঞ্চলে পর্যটকদের ভিড়

দুর্গাপূজার ছুটি ঘিরে ২০ অক্টোবর থেকে শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের আগমন বাড়তে থাকে। হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, বাংলো ও অতিথিশালাগুলোতে ছিল ব্যস্ততা। ছুটি শুরুর আগেই অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠানের কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে যায়।

শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ চা-বাগান ছিল পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথে ঘুরেছেন, উপভোগ করেছেন সবুজ প্রকৃতি এবং ছবি তুলে ধরে রেখেছেন ছুটির স্মৃতি।

প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে পর্যটকদের বড় একটি অংশ যান লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, চা জাদুঘর, মিনি চিড়িয়াখানা, বিভিন্ন চা-বাগানের লেক, ডিনস্টন সিমেট্রি, লাল টিলা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমি-৭১ ঘিরেও।

চার দিনে লাউয়াছড়ায় আয় ৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৫ হাজার ৩২২ জন পর্যটক ভ্রমণ করেন। এ সময়ে রাজস্ব আয় হয় ৫ লাখ ৫২ হাজার ১৭২ টাকা। ২৪ অক্টোবরের পর্যটক ও রাজস্বের হিসাব এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়।

সংস্কৃতি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার ও হস্তশিল্প পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। একই ভ্রমণে চা-বাগান, বনাঞ্চল, ঐতিহাসিক স্থান ও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ শ্রীমঙ্গলের পর্যটনকে বৈচিত্র্যময় করেছে।

পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। হোটেল-রিসোর্টের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যস্ততা বাড়ে। রিকশা, অটোরিকশা ও চাঁদের গাড়ির চালকেরাও বাড়তি আয়ের সুযোগ পান।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

ছুটির সময়ে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশ, পর্যটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল ছিল।