বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ফিলিপাইনের ম্যানিলার মুসেও দেল গালিওন এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্ট। একটি জাদুঘরে উঠে এসেছে চার শতাব্দীর সামুদ্রিক বাণিজ্য, নাবিকদের জীবন ও মসলার বাণিজ্যের ইতিহাস। অন্যটিতে শিল্পকলা, কমিকস, জনপ্রিয় সংস্কৃতি এবং ‘স্টার ওয়ার্স’-এর মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্রের জগৎ মিলেছে আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে। ইতিহাস ও শিল্পকলায় আগ্রহী পর্যটকদের জন্য জাদুঘর দুটি হতে পারে ভ্রমণের উল্লেখযোগ্য গন্তব্য।

মুসেও দেল গালিওন: সামুদ্রিক বাণিজ্যের ইতিহাস

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ‘মল অব এশিয়া’ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মুসেও দেল গালিওন জাদুঘরটি স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক আমলে ম্যানিলা ও মেক্সিকোর আকাপুলকোর মধ্যে পরিচালিত সামুদ্রিক বাণিজ্যের ইতিহাস তুলে ধরে। এই বাণিজ্যপথে এশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে পণ্য, বিশেষ করে মসলা, আদান-প্রদান হতো।

জাদুঘরটির অন্যতম আকর্ষণ ‘এস্পিরিতু সান্তো’ নামের ঐতিহাসিক জাহাজের বিশাল প্রতিরূপ। ১৬০৩ থেকে ১৬১৮ সালের সময়কালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই জাহাজের প্রতিরূপটি প্রায় ১৩০ ফুট দীর্ঘ ও ১০০ ফুট উঁচু।

প্রদর্শনীতে আলোকচিত্র, ডিজিটাল পর্দা ও ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাচীন নাবিকদের জীবন এবং প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন মসলার ঘ্রাণ নিতে পারেন। পাশাপাশি স্পর্শকাতর পর্দার সাহায্যে নক্ষত্র ও সূর্যের অবস্থান দেখে দিক নির্ণয়ের ঐতিহাসিক পদ্ধতি সম্পর্কেও জানতে পারেন।

ফিলিপাইনের জাহাজ নির্মাণশিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশটির নাবিকদের অবদানও এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে জাদুঘরটি শুধু ইতিহাসের সংগ্রহশালা নয়, সামুদ্রিক ঐতিহ্য জানারও একটি শিক্ষামূলক গন্তব্য।

লুকাস মিউজিয়াম: চলচ্চিত্র ও শিল্পকলার মিলন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে এক্সপোজিশন পার্কে অবস্থিত লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্টের প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্র নির্মাতা জর্জ লুকাস ও তাঁর স্ত্রী মেলোডি হবসন। প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত জাদুঘরটির নকশা করেছেন চীনা স্থপতি মা ইয়ানসোং।

পাঁচতলা ভবনটির মোট আয়তন প্রায় ২৭ হাজার ৮০০ বর্গমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ বর্গমিটার জায়গা প্রদর্শনীর জন্য নির্ধারিত। ভবনটির আধুনিক, বাঁকানো স্থাপত্য একে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে। আশপাশের এলাকায় ২০০টির বেশি গাছ লাগিয়ে সবুজ পরিসরও গড়ে তোলা হয়েছে।

জাদুঘরটিতে প্রায় ৪০ হাজার শিল্পকর্মের সংগ্রহ রয়েছে। কমিকস, শিশুতোষ গল্প, কল্পকাহিনি, ইতিহাস ও সমাজজীবনসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী।

এখানে ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ, ফ্রিদা কাহলো, নরম্যান রকওয়েল ও দিয়েগো রিভেরার মতো শিল্পীদের কাজের পাশাপাশি কমিকস ও চিত্রকাহিনির দুর্লভ নিদর্শন রয়েছে। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ‘স্টার ওয়ার্স’ ও ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত পোশাক ও বিভিন্ন উপকরণ। প্রথম ছয়টি ‘স্টার ওয়ার্স’ চলচ্চিত্রকে ঘিরে সাজানো বিশেষ প্রদর্শনীতে লুক স্কাইওয়াকারের ল্যান্ডস্পিডারও রয়েছে।

পর্যটকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

জাদুঘর দুটি ভিন্ন ধরনের পর্যটন অভিজ্ঞতা দেয়। মুসেও দেল গালিওন সামুদ্রিক ইতিহাস, বাণিজ্য ও নাবিকদের ঐতিহ্য জানতে আগ্রহীদের আকৃষ্ট করতে পারে। অন্যদিকে লুকাস মিউজিয়াম শিল্পকলা, চলচ্চিত্র, কমিকস ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির অনুরাগীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

ভ্রমণ পরিকল্পনার সময় দর্শনার্থীদের জাদুঘর দুটির প্রবেশমূল্য, খোলার সময়, টিকিটের নিয়ম এবং চলমান প্রদর্শনীর তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।