নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর গ্রামে অবস্থিত চলনবিল জাদুঘরে একসঙ্গে জানা যায় প্রাচীন নিদর্শন, লোকজ সংস্কৃতি ও বিলাঞ্চলের মানুষের জীবনযাপনের ইতিহাস। চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি হতে পারে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংগ্রহশালা

চলনবিল জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। অধ্যাপক এম এ হামিদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরের উদ্দেশ্য ছিল চলনবিল অঞ্চলের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নিদর্শন সংরক্ষণ করা। পরে ১৯৮৯ সালের ২ জুলাই জাদুঘরটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় আসে।

কী দেখবেন জাদুঘরে

জাদুঘরের সংগ্রহে রয়েছে প্রাচীন পুঁথি ও হাতে লেখা ধর্মগ্রন্থ, পোড়ামাটির নিদর্শন, পাথরের মূর্তি, বিভিন্ন আমলের মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক এবং অতীতের নানা ব্যবহার্য সামগ্রী। এ ছাড়া চলনবিল অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত মাছ ধরার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে।

এসব সংগ্রহের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও অতীতের সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব ও লোকজ ঐতিহ্যে আগ্রহী দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে জাদুঘরের ভবন ও সংগ্রহ সংরক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমস্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাই ভ্রমণের আগে জাদুঘরটি বর্তমানে দর্শনার্থীদের জন্য খোলা আছে কি না এবং কী কী নিদর্শন প্রদর্শিত হচ্ছে, তা স্থানীয়ভাবে জেনে নেওয়া ভালো।

কীভাবে যাবেন

নাটোর জেলা শহর থেকে সড়কপথে গুরুদাসপুর উপজেলায় যেতে হবে। সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহনে খুবজীপুর গ্রামে পৌঁছানো যায়। জাদুঘরটি গুরুদাসপুর উপজেলা সদর থেকে আনুমানিক পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কখন যাবেন

জাদুঘর দেখার পাশাপাশি সময় নিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন চলনবিলের আশপাশের জনপদ। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ জলরাশি ও নৌভ্রমণ এ অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। শীতকালে বিলাঞ্চলের গ্রামীণ পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে জাদুঘরের খোলার সময়, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন এবং যাতায়াতের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি এড়িয়ে ইতিহাস ও প্রকৃতির সমন্বয়ে একটি সুন্দর ভ্রমণ পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।